নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ‘অভিযান ও হয়রানির’ প্রতিবাদে সুন্দরবনে পর্যটনবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন মালিক ও শ্রমিকরা। সোমবার (৬ জানুয়ারি) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক ধর্মঘটে মোংলা বন্দরে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সুন্দরবন ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি কয়েকশ পর্যটক গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
নৌযান মালিকদের অভিযোগ, রোববার মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় নোঙর করা প্রায় ৩০টি জালিবোটের ওপরের কাঠামো (ছাদ ও বসার স্থান) নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কেটে ও ভেঙে ফেলেছেন। এতে বোটগুলোর সৌন্দর্যহানি সহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং অধিদপ্তরের দেওয়া ‘কঠিন শর্ত’ বাতিলের দাবিতে প্রায় ৪০০টি জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, "অধিদপ্তর যেসব শর্ত দিচ্ছে, তা সাধারণ মালিকদের পক্ষে পূরণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। হয়রানিমূলক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনে কোনো নৌযান চলবে না।"
পর্যটকদের চরম ভোগান্তি
সকাল থেকেই মোংলার পিকনিক কর্নার ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। তবে কোনো নৌযান না ছাড়ায় বিপাকে পড়েন তারা।
- সাজেদ রহমান (যশোর): পরিবার নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মাঝপথে আটকে পড়েছেন। তিনি জানান, গাড়ি থেকে নামার পর ধর্মঘটের কথা শুনে তারা হতাশ।
- রেজাউল করিম (খুলনা): ৫৪ জনের একটি দল নিয়ে আসলেও কোনো নৌযান না পেয়ে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির নিশ্চিত করেছেন যে, ধর্মঘটের কারণে ভোর থেকে কোনো পর্যটকবাহী যান বা দর্শনার্থী করমজলে পৌঁছায়নি।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, "নৌযানের ওপরের অতিরিক্ত অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। এতে নৌযানের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"