যশোরে ফের প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জেলা শহরের পর এবার মনিরামপুর উপজেলায় এক বরফকল ব্যবসায়ীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তির নাম রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪৩), যাকে চরমপন্থি দলের নেতা বলে দাবি করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার কপালিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রানা প্রতাপ উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর একমাত্র ছেলে। তার বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় হত্যাসহ তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় রানা প্রতাপ কপালিয়া বাজারে অবস্থিত তার নিজস্ব বরফ কলে বসেছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক এসে তাকে কথা বলার জন্য পাশে ডেকে নিয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা রানার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিতে রানার মস্তক বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মনোহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আকতার ফারুক মিন্টু জানান, "বাজারে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। রানা এক সময় চরমপন্থি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে বরফকলের ব্যবসা করছিলেন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা এই প্রতিশোধ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
মনিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, "প্রাথমিক তদন্তে রানা চরমপন্থি নেতা ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।"
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার ও মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এমদাদুল হক। উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায়ও যশোর শহরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে একইভাবে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। একের পর এক এমন খুনের ঘটনায় জেলাজুড়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।