ঘন কুয়াশায় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিঘ্নিত হচ্ছে উড্ডয়ন ও অবতরণ।
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে। দৃষ্টিসীমা (ভিজিবিলিটি) সর্বনিম্ন পর্যায়ের নিচে নেমে আসায় গত কয়েক দিনে অন্তত অর্ধশত ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। রানওয়ের লাইটিং সিস্টেমের ত্রুটির কারণে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ক্যাটাগরি-২’ সুবিধা থেকে ‘ক্যাটাগরি-১’-এ নেমে যাওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে এয়ারলাইন্সগুলোকে গুনতে হচ্ছে বিপুল আর্থিক মাশুল।
বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর কেবল ‘আইএলএস ক্যাটাগরি-১’ সুবিধার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় বিমান অবতরণের জন্য রানওয়েতে কমপক্ষে ১,২০০ মিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন। অথচ ‘ক্যাটাগরি-২’ সুবিধা থাকলে ৫০০ থেকে ৭৫০ মিটার দৃশ্যমানতার মধ্যেও নিরাপদে অবতরণ সম্ভব হতো। গত ২৯ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান অবতরণের সময় রানওয়ের লাইটিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করলে বিমানবন্দরটি এই উচ্চতর সুবিধা হারিয়ে ফেলে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক দিনেই অন্তত ৯টি ফ্লাইট কুয়াশার কারণে ঢাকায় নামতে না পেরে কলকাতা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এমন ডাইভার্ট করা ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৫০টি। দীর্ঘ সময় আকাশে চক্কর কাটা এবং বিকল্প গন্তব্যে নামার ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কানেক্টিং ফ্লাইটের ট্রানজিট যাত্রীরা।
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, "ক্যাটাগরি-২ সুবিধা শুধু যন্ত্র বসালেই হয় না, এটি ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। শীত মৌসুমের আগেই লাইটিং সিস্টেম সংস্কার করা গেলে এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।"
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইটগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভর। ইতিমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এগুলো স্থাপন করে ক্যাটাগরি-২ সুবিধা পুনরায় চালু করা হবে।
ফ্লাইট ডাইভার্ট হওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলোকে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ এবং ক্রু ম্যানেজমেন্টের জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা জানান, একটি ফ্লাইট ডাইভার্ট হলে এর প্রভাব পড়ে পরবর্তী সব ফ্লাইটের শিডিউলে। এতে অপারেশনাল ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রী অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়।
বিষয় : কুয়াশা ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
