শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগামী ২২ কার্যদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। এই সময়ের মধ্যে প্রকৃত খুনি ও নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা না হলে ‘সরকার পতন’ আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচিতে জাবের বলেন, “আমরা ইতিপূর্বে ৩০ কার্যদিবসের সময় দিয়েছিলাম, যার আর মাত্র ২২ দিন বাকি আছে। আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে শুধু সরাসরি খুনি নয়, বরং এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকার যদি এই সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।”
তিনি আরও জানান, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আগামীকাল শনিবার থেকে দেশের সকল ‘বাংলাদেশপন্থি’ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করবেন তারা। তবে যারা বিদেশের তাঁবেদারি করে, তাদের কাছে কোনো সহযোগিতা চাওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের দাবি, ওসমান হাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফ কায়েমের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। জাবের অভিযোগ করেন, “সীমান্তে আধিপত্য বজায় রাখা এবং দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে হাদি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। একটি বিশেষ মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় সুপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নিলে কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ আজকের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে।