উচ্চ আদালতের আদেশে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা কাটলেও শেষ রক্ষা হলো না নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার। হলফনামায় ত্রুটি ও মামলার নথিপত্র দাখিল না করায় বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ সিদ্ধান্ত জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান, মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিলের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে: ১. হলফনামায় অসংগতি: নিয়ম অনুযায়ী এফিডেভিটে প্রার্থী ও আইনজীবীর সই একই দিনে হতে হয়। কিন্তু মান্না যেদিন সই করেছেন, আইনজীবী তার একদিন আগেই সই সম্পন্ন করেছেন। ২. মামলার নথির অভাব: হলফনামায় কয়েকটি মামলায় খালাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও এর স্বপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ বা কাগজপত্র জমা দেননি তিনি। ৩. সম্পদ বিবরণী: তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতেও বেশ কিছু ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে।
এর আগে ঋণখেলাপির তালিকায় নাম থাকায় মান্নার প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের কাছে তার ৩৮ কোটি ৪ লাখ টাকা ঋণ বকেয়া ছিল। হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করলেও গত রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ঋণ পুনঃতফসিলের শর্তে সিআইবি তালিকা থেকে তার নাম স্থগিত করার আদেশ দেন। ফলে আইনিভাবে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ খুলেছিল, যা আজ হলফনামার ভুলে ফের রুদ্ধ হলো।
বগুড়া-২ আসনে মান্না ছাড়াও আরও তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, এবং ত্রুটির কারণে গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত মীর শাহে আলম এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং অফিস।