চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে শহীদ হোসেন (৩৮) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সীমান্তের ৭০ নম্বর প্রধান খুঁটি (মেইন পিলার) এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শহীদ হোসেন জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিএসএফ গুলি করার কথা স্বীকার করলেও, গুলিতে কেউ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি ও বিএসএফের ভাষ্য
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম ঘটনার বিষয়ে বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট সুজিত কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিএসএফের কমান্ড্যান্ট তাকে জানিয়েছেন, মাদক নিয়ে ফেরার সময় দুজন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত খুঁটি ৭০ থেকে ২০০ গজ ভারত অভ্যন্তরে থামতে বলা হয়। তারা হাঁসুয়া দিয়ে বিএসএফের ওপর চড়াও হলে আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ গুলি ছোড়ে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হলেও, বিএসএফ কর্মকর্তা গুলিতে কেউ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
অন্যদিকে, নিহত শহীদ হোসেনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রগুলো বিএসএফের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে।
জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, শহীদ হোসেন মূলত কৃষিশ্রমিক। অন্যান্য দিনের মতো আজ সকালেও তিনি সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ভুট্টাখেতে কাজ করতে যান। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই তিনি বিএসএফের গুলিতে মারা যান।
সাইফুল ইসলাম আরও জানান, শহীদ হোসেন ভুট্টাখেত থেকে কাটা বস্তাভর্তি ঘাস নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বস্তার ভেতরে মাদক আছে সন্দেহে বিএসএফ গুলি ছোড়ে, এতে শহীদ হোসেনের মৃত্যু হয়। নিহত হওয়ার পর বিএসএফ তার মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে একটি হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন খবর পাওয়া গেলেও শহীদ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউই এখন পর্যন্ত থানায় যোগাযোগ করেননি। ফলে এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত মরদেহ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।