× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

দেশের সবাই নির্বাচন চায়, কিন্তু ইসি দৃশ্যমান পদক্ষেপে ঢুকতে পারেনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৯ নভেম্বর ২০২৫, ২২:১২ পিএম । আপডেটঃ ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ২২:১৩ পিএম

রংপুরে নাগরিক প্লাটফর্মের আঞ্চলিক প্রাক্‌-নির্বাচনী পরামর্শ সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন সিপিডি ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

দেশের সর্বস্তরের জনগণ নির্বাচন চাইলেও নির্বাচন কমিশন ( ইসি) এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকরী পদক্ষেপে প্রবেশ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, একদিকে মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে প্রবল আগ্রহ ও প্রত্যাশা থাকলেও, অন্যদিকে নির্বাচনটি সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে চরম আস্থার ঘাটতি বিরাজ করছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রংপুর নগরের আরডিআরএস মিলনায়তনে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত প্রাক্‌-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই পরামর্শ সভায় রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভায় 'নির্বাচিত পরবর্তী সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা' এবং 'সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে কী প্রত্যাশা' বিষয়ে মুক্ত আলোচনা হয়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, দেশের পেশাজীবী, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, প্রবাসী ও বিদেশিরাসহ আমলাতন্ত্রের ভেতরের অস্বস্তি কাটানোর জন্যও সবাই নির্বাচন চায়। একই সঙ্গে, জনগণের মধ্যে আস্থার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তাদের শঙ্কা— নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, নির্বাচনে সহিংসতা বাড়বে কিনা এবং কমিশনের ক্ষমতা আছে কিনা। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি "বৈপরীত্যের মধ্যে অবস্থান" হিসেবে উল্লেখ করেন— একদিকে প্রচণ্ড প্রত্যাশা, অন্যদিকে আস্থার অভাব।

কমিশনের পদক্ষেপ ও সংস্কারবিরোধী মনোভাব

নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কমিশন এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এছাড়া, দুদক অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কৌশলগত সুপারিশগুলো বাদ দেওয়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারের মধ্যে সংস্কারবিরোধী মনোভাব ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসছে বলে হতাশা প্রকাশ করেন।


জনগণের মতামত ও অবিশ্বাস

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়— নির্ধারিত সময়ে (আগামী ফেব্রুয়ারিতে) নির্বাচন হওয়া সম্ভব কি না এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাঁদের আস্থা আছে কি না?


জবাবে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী জানান:

  • তাঁরা মনে করেন নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া কঠিন।
  • নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাঁদের আস্থা নেই।


সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বলেন, ভোটারদের মধ্যে ভোটের দিন নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কিনা, সেই শঙ্কা রয়েছে। বিগত দিনে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা নিরপেক্ষ থাকতে না পারায় জনগণ কমিশনের প্রতি আস্থাহীন।

গণ অধিকার পরিষদের প্রতিনিধি জয়নাল আবেদিন মন্তব্য করেন, মানুষ "যারা শিরদাঁড়া দাঁড় করে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারবে" এমন মানুষ ছাড়া কমিশনের প্রতি আস্থা পাবে না।

সভা শেষে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মানুষ নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা কম বলে জানালেও, তিনি বিশ্বাস করেন মানুষকে হতাশ হলে চলবে না।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার হোসেন নবীন

যোগাযোগ: +880244809006

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2025 National Tribune All Rights Reserved.