× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৫ ঘণ্টা তাণ্ডবের পর নিয়ন্ত্রণে কড়াইল বস্তির ভয়াবহ আগুন, হাজারো বাসিন্দা খোলা আকাশের নিচে

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০০:১৮ এএম । আপডেটঃ ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৪৬ এএম

আগুন লাগার পর ঘরের চালের টিন খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন কেউ কেউ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বস্তিতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৯টি ইউনিটের নিরলস চেষ্টায় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বউবাজার এলাকার কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি ও ‘ক’ ব্লকের হাজারখানেক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম এক খুদে বার্তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আগুনের খবর পেয়ে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে আরও ৮টি ইউনিট যোগ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বউবাজারের কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি ও ‘ক’ ব্লক—এই তিনটি এলাকায় আগুনের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। বস্তি হওয়ার কারণে দাহ্য বস্তু এবং অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কিত হয়ে হাজারো বস্তিবাসী ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে আসেন। বউবাজারের বাসিন্দারা কেউ কাছের খামারবাড়ি (ঈদগাহ) মাঠে, অনেকে এরশাদ স্কুলমাঠ কিংবা মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন।

টিঅ্যান্ডটি মাঠে শত শত মানুষকে নিজেদের ঘর থেকে আনা সামান্য মালপত্র ও আসবাব নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে দেখা যায়। হালকা শীত এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে তাঁরা কাঠ ও প্লাস্টিক পুড়িয়ে আগুন পোহাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাচালক রবিন শেখ জানান, আগুন যখন তাঁদের ঘরের কাছে পৌঁছে, তখন আগুনের তাপে ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাঁর স্ত্রী নুরেনা বেগম বলেন, "আগুন এত দ্রুত ছড়াল যে ঘর থেকে দুটি র‌্যাক ছাড়া আর কিছুই আনতে পারিনি।"

এদিকে, বায়তুল আমান এলাকায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সহায়তায় স্থানীয় আবদুর রহিম ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন। তিনি জানান, বহু পরিবার ঘর ফাঁকা করে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ায় মালামাল চুরি রোধ করতে বহিরাগত কাউকে আগুন লাগা অংশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তদন্তের পরই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার হোসেন নবীন

যোগাযোগ: +880244809006

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2025 National Tribune All Rights Reserved.