ভূমিকম্পের কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আগামী ৬ ডিসেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামীকাল রোববার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে সব আবাসিক হল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তার দিককে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এসময় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁরা ভূমিকম্পের পর আবাসিক হলগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরামর্শ দেন। ঝুঁকি নিরূপণ ও সম্ভাব্য সংস্কার কাজের স্বার্থে আবাসিক হলগুলো দ্রুত খালি করার কথাও বলেন বিশেষজ্ঞরা।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় দুই সপ্তাহের জন্য (৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ এবং আবাসিক হলগুলো খালি রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। হল ছাড়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রাধ্যক্ষদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে, বন্ধের এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি অফিসগুলো যথারীতি খোলা থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে কেবল আগামীকাল রোববারের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছিল, যা পরে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।
প্রসঙ্গত, গত শুক্র ও শনিবার দুই দফা ভূমিকম্পের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া মুহসীন হলসহ কয়েকটি হলের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটে, যা হলগুলোর ভঙ্গুর অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।