সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর চা বাগান এলাকায় প্রায় ৩৫ একর খাস জমি দখলমুক্ত করে ৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুধু স্থাপনা উচ্ছেদই নয়, সরকারি জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ ও বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে এই বিশেষ অভিযান। সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন:
- চা বাগানের সাবেক ব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হোসেন লিটন (৩৮),
- দলিল লেখক শাহজাহান ওমর, এবং
- মোসাদ্দেক হোসেন কোরেশী।
অভিযান চলাকালে উচ্ছেদে বাধা দেওয়া, রেজিস্ট্রেশনবিহীন জাল দলিল তৈরি করে জমি হস্তান্তর এবং চা শ্রমিকদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগে মোট তিনজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অবৈধভাবে সরকারি ভূমি দখল, কাঠামো নির্মাণ ও ক্ষতিসাধনের দায়ে তাদের এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াৎ জানান, “দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র খাদিমপাড়া এলাকার ৩৫ একর খাস জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ এবং প্লট বিক্রি করে আসছিল। জমিগুলো খাদিমনগর চা-বাগানের তত্ত্বাবধানে থাকলেও যথাযথ দেখভাল না হওয়ায় দখলদাররা এই সুযোগ নেয়। তারা বাগান থেকে চা শ্রমিকদের তাড়িয়ে জাল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি করত।”
খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আতাউর রহমান শামীম জানান, চক্রটি ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে মালিকানা লিখে সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে জমি বিক্রি করত। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, জমি কেনা-বেচার পাশাপাশি চক্রটি এখানে মাদকের আড্ডাও বসাত। তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পেত না।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়রা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ আরও জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের পাশাপাশি অন্যান্য দখলদারদের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই অভিযানে সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলীম উল্লাহ খান এবং সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সহযোগিতা করে সিলেট মহানগর পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা।