বিওয়াইএলসি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়ুথ ম্যাটারস সার্ভে ২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশ করেছেন গবেষক ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা, নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ নিয়ে হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) পরিচালিত 'ইয়ুথ ম্যাটারস সার্ভে ২০২৫'-এ এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার বিওয়াইএলসি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২,৫৪৫ জন তরুণের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, ৩০ শতাংশ তরুণ এখনো সিদ্ধান্তহীন যে, তারা কোন দলকে ভোট দেবেন। এর পাশাপাশি, ১৭.৭ শতাংশ তরুণ পছন্দের রাজনৈতিক দলের নাম প্রকাশে সরাসরি অনিচ্ছা জানিয়েছেন।
তবে ভোটের মাঠে তরুণদের আগ্রহ আশাব্যঞ্জক। উত্তরদাতাদের ৮৯ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার এবং ৯৭.২ শতাংশ আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক।
দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট:
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ৪৯.৮ শতাংশ উত্তরদাতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, ৬৩.১ শতাংশ তরুণ মনে করেন, পূর্ববর্তী সরকারের চেয়ে এই সময়কালে জনসমক্ষে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা নিজেদের মতামত প্রকাশে বেশি নিরাপদ বোধ করেন।
দেশের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, ৬৭.১ শতাংশ তরুণ দুর্নীতি নির্মূলকেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এছাড়া, ৫২.৬ শতাংশ তরুণ মনে করেন, ছাত্র রাজনীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায়সঙ্গত ও নির্বিঘ্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর প্রধান কারণ হিসেবে ৪৮ শতাংশ রাজনৈতিক প্রভাবকে, ২৩.৮ শতাংশ সহিংসতা ও সংঘর্ষকে এবং ১১.১ শতাংশ ক্ষমতা ও সম্পদের অপব্যবহারকে উল্লেখ করেছেন।
নিরাপত্তাহীনতা, আকাঙ্ক্ষা ও বিদেশে পাড়ি
জরিপে সামাজিক ও লিঙ্গভিত্তিক নিরাপত্তাহীনতার এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে নারীরা নিরাপদ নন।
অন্যদিকে, তরুণদের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৩৯.১ শতাংশ তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী। তবে হতাশার দিক হলো, ১৮.৩ শতাংশ তরুণ ভবিষ্যতে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। এর মূল কারণ হিসেবে তারা কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ ও সামাজিক-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকে উল্লেখ করেছেন।
এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তরুণদের মাঝে এক ধরনের আশাবাদ লক্ষ্য করা গেছে। ৬১.৭ শতাংশ উত্তরদাতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইতিবাচক ও আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার এই জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে মন্তব্য করেন, "দেশের ৬১.৭% তরুণ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ও ইতিবাচক। বিওয়াইএলসির এই জরিপে তাই উঠে এসেছে।"
বিওয়াইএলসির নির্বাহী পরিচালক তাহসিনাহ আহমেদ বলেন, "তরুণরা তাঁদের আকাঙ্ক্ষা ও আশঙ্কার কথা বলেছেন এবং তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যেও অনেক আশাবাদী। তাঁদের কথা শোনা, তাঁদেরকে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং তাঁদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিনির্ধারণ করা এখন ভীষণভাবে জরুরি।”
ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর উদ্যোক্তা হতে চাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে চাকরি বাজারে যথেষ্ট সুযোগ না থাকাকে প্রধান বলে উল্লেখ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
