চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার সকালে সিএমপির খুলশী থানা প্রাঙ্গণে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন সিএমপি উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম। অবিলম্বে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক যমুনা টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত জানান, শনিবার রাতে জিইসি কনভেনশন সেন্টারে পুলিশের গুলির ঘটনার ফলোআপ রিপোর্ট সংগ্রহ করতে তিনি আজ সকালে খুলশী থানায় যান।
সাংবাদিক জোবায়েদ বলেন, 'সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করা শুরু করলে ডিসি আমিরুল ইসলাম এসে প্রশ্ন করেন যে, আমি কার অনুমতিতে রেকর্ড করছি। আমি তখন বলি, সবার সামনে সাক্ষাৎকার রেকর্ড করছি, অনুমতির প্রয়োজন নেই।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'তখনই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে ক্যামেরা বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তিনি আমাকে থানার একটি কক্ষে আটকে রেখে চড়-থাপ্পর ও ঘুষি মারেন।' জোবায়েদ অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাপারসন আসাদুজ্জামান লিমনকেও মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, 'ওই সাংবাদিক অনুমতি ছাড়া থানার ভেতরে সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। জিজ্ঞাসা করলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে কিছুটা গোলমালের পর আমরা তাকে হেফাজতে নিই। অল্প সময় পর তাকে ছেড়ে দেই।'
এই ঘটনার পরপরই সাংবাদিক নেতারা খুলশী থানার সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন এবং অভিযুক্ত ডিসির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চট্টগ্রাম ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (সিইউজে) এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, 'একজন জ্যেষ্ঠ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণ নিন্দনীয় ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটি সরাসরি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।'