ছবি: সংগৃহীত
তুলির আঁচড়ে মিশেছে লাল, নীল, সবুজসহ আরও কত রং। এই রঙের খেলায় মেতেছেন একদল শিল্পী। শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠেছে নান্দনিক ছবি ও ভাস্কর্য। দুপুরের রোদে গাছের ছায়ায় বসে কাগজের ক্যানভাসে রংতুলির নিপুণ আঁচড় ফেলছেন কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী। তাদের নবীন শিল্পী বললেও ভুল হবে না।
তারা পেনসিলের স্কেচে ফুটিয়ে তুলছেন আমাদের দেশের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, গ্রাম বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের ছবি। শিল্পীদের সৃষ্টিশীল এমন কাজ কার না ভালো লাগে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের সাজানো প্রাঙ্গণের সেই নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।
১৯৭৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজশাহী চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এর প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন শিল্পী অধ্যাপক বনিজুল হক। নব্বইয়ের দশকে ১৬ জন শিক্ষক, ১৪ জন কর্মচারী এবং কিছু শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে এর পাঠদান শুরু হয়। চারুকলা শিক্ষাকে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯ মার্চ ১৯৯৪ সালে মহাবিদ্যালয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে এনে ‘চারুকলা বিভাগ’ নামকরণ করে। পরবর্তীতে এটি অনুষদের মর্যাদা লাভ করে।
বর্তমানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন একাডেমিক ভবনে চারুকলা অনুষদের তিনটি বিভাগে মোট ২৭ জন শিক্ষক পাঠদান এবং ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিভাগ তিনটি হলো গ্রাফিক্স ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র, মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য। তিনটি বিভাগে আটটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও সম্মান প্রোগ্রামে পড়ানো হয়।
চারুকলা অনুষদের প্রধান ফটকের হাতের ডান পাশের দেওয়ালে রয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’। অপর পাশে রয়েছে কামরুল হাসানের তিনটি গ্রামীণ ছবির সংমিশ্রণ। সীমানা প্রাচীরের দেয়ালে আরও প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ক্যানভাসে অনুষদের শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম রয়েছে ।
প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পর প্রথমে চোখে পড়ে লম্বা আলপনা। সাদা রঙে বানানো আলপনা দেখে মন ভরে যায়। একটু সামনে গেলেই দেখা যায় চারুকলা অনুষদের ত্রিভুজ আকৃতি ভবন। ভবনের একপাশে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন একাডেমিক ভবন। এখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান হয়। ভবনের পূর্ব পাশে ‘ডি চত্বর’। আরও পূর্বদিকে চারুকলা অনুষদের নিজস্ব মুক্তমঞ্চও রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীরা বসন্ত উৎসব, অ্যালামনাই, প্রতিষ্ঠা দিবস, শীত আগমনী অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
একাডেমিক ভবনের পেছনে ‘পলাশ চত্বর’। প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্রের শিক্ষার্থী সোহান জানান, ‘এই জায়গায় আগে পলাশ গাছ ছিল। তাই সবাই নাম রেখেছে পলাশ চত্বর। আর চত্বরকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের নানা আয়োজন। তবে এখন পলাশ গাছটি আর নেই।’ পলাশ চত্বরের পেছনে রয়েছে পুরনো মহাবিদ্যালয়টি। পলাশ চত্বরে কেউ বসে কেউ দাঁড়িয়ে মেহগনি গাছের গুঁড়িকে বাটালি ও হাতুড়ি দিয়ে খোদাই করে তৈরি করছেন ভাস্কর্য। কেউ কেউ ডংকিতে বসে কাগজের ক্যানভাসে আঁকছেন ছবি।
চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমাদের এই প্রাঙ্গণটি নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। আমরা মফস্বল এলাকায় থাকি। রেললাইনের ওপারের মানুষ বলে হাসি-ঠাট্টা করে। আমাদের খারাপ লাগে না এই ভেবে যে, আমরা নিজস্ব একটা সত্তা ধারণ করি। আর সেটাই আমাদের পরিচয়।’
বিষয় : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
