সোমবার বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে ‘বিটুইন কেয়স অ্যান্ড কোহেশন: অ্যান এক্সপ্লোসিভ রি-ইমার্জেন্স অব ঢাকা’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত প্রধান অতিথি শিরীন পারভীন হক, সম্পাদক তাসলিম শাকুর ও ইমামুর হোসেনসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত গবেষক ও অতিথিবৃন্দ।
দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘সাউথ এশিয়ান কালচারাল স্টাডিজ’-এর ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকাকে নিয়ে লেখা একটি বিশেষ গবেষণা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের ভ্রুম্যান কক্ষে ‘বিটুইন কেয়স অ্যান্ড কোহেশন: অ্যান এক্সপ্লোসিভ রি-ইমার্জেন্স অব ঢাকা’ শীর্ষক এই বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক, স্থপতি, গবেষক ও সমাজবিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা ঢাকাকে শুধু যানজট বা অপরিকল্পিত নগরায়ণের সংকটে বন্দি না রেখে, একে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা হিসেবে পাঠ করার আহ্বান জানান।
তাসলিম শাকুর ও ইমামুর হোসেন সম্পাদিত এই গ্রন্থটি সাউথ এশিয়ান কালচারাল স্টাডিজের উদ্যোগে এবং একাডেমিক প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরির সহযোগিতায় প্রকাশিত হয়েছে। মূলত ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালার দীর্ঘ গবেষণা ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই এই আকর গ্রন্থটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
বইটির পেছনের প্রচ্ছদে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান লিখেছেন, ঢাকাকে শুধু নীতি ও পরিকল্পনার চোখ দিয়ে দেখলে এই শহরকে পুরোপুরি বোঝা যাবে না। নগর নিয়ে প্রচলিত আলোচনা যেখানে প্রায়ই সমস্যা ও সমাধানের ছকে আটকে থাকে। সেখানে এই বই সেই চেনা বয়ান থেকে সরে এসেছে। তাঁর মতে, আদি বাসিন্দাদের স্মৃতি আর নতুনদের একের পর এক আগমনে গড়ে ওঠা এই শহর অনেক সময় ক্লান্তিকর হলেও সব সময় এক কৌতূহলজাগানিয়া মহানগর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন এবং নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের পরিচিত মুখ শিরীন পারভীন হক।
তিনি বলেন, "ঢাকাকে শুধু ভৌত অবকাঠামো, জনসংখ্যার চাপ বা অপরিকল্পিত নগরায়ণের সংকটের মধ্য দিয়ে না দেখে মানুষের জীবন, স্মৃতি, অধিকার, সংগ্রাম ও অংশগ্রহণের ভেতর দিয়ে বোঝার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।"
গ্রন্থের সম্পাদক তাসলিম শাকুর ও ইমামুর হোসেন জানান, গ্রন্থটিতে ঢাকাকে কোনো একক বা স্থির পরিচয়ের শহর হিসেবে দেখা হয়নি। বরং রাজনৈতিক পরিবর্তন, জনআন্দোলন, স্থানচ্যুতি, অনানুষ্ঠানিক বসতি, আবাসন, ধর্মীয় আচার, স্মৃতি এবং খাদ্যসংস্কৃতির মধ্য দিয়ে শহরটির বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুল করিমসহ দেশে অবস্থানরত একাধিক লেখক উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি যৌথভাবে এই গ্রন্থে অবদান রাখা দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ জন গবেষকের প্রবন্ধের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয়। প্রবন্ধগুলোতে ঢাকার ছাত্র আন্দোলন, উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন, অনানুষ্ঠানিক নগরায়ণ, জেনেভা ক্যাম্পের মহররম থেকে শুরু করে পথের খাবার ও শিশু-তরুণবান্ধব নগর গড়ার মতো দক্ষিণ এশিয়ার নির্মিত পরিবেশের নানা দিক স্থান পেয়েছে।
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নাজমুল ইমামের প্রতি আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নবনীতা ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। আলোচকদের মতে, গ্রন্থের শিরোনামে ব্যবহৃত ‘বিশৃঙ্খলা’ (কেয়স) ও ‘সংহতি’ (কোহেশন) পরস্পরের বিপরীত দুটি অবস্থা নয়। বরং এই দুইয়ের ভেতরের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই ঢাকা প্রতিনিয়ত ভাঙছে, বদলাচ্ছে এবং নতুনভাবে জেগে উঠছে। এই গ্রন্থটি ঢাকা নিয়ে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক গবেষণার এক নতুন দুয়ার উন্মোচন করল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
