ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’র সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম’ (ইউটিএফ)।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ড. শামীম হামিদী এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানান এবং হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি করেন।
এর আগে সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে কর্মসূচি চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। যাতে দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
বিবৃতিতে ইউটিএফ নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশব্যাপী জনবান্ধব ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই সোমবার সাভারে পদযাত্রা ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় এই যাত্রা শুরু হয়।
সংগঠনটির মতে, এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বিবৃতিতে শিক্ষকেরা বলেন, "জুলাই বিপ্লবের প্রতিপক্ষ শক্তি বিপ্লবীদের ভয় দেখাতে এবং জুলাই ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করতে এ ধরনের হামলার পথ বেছে নিয়েছে।"
শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, প্রকাশ্য সমাবেশে এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনা দেশে চলমান আইনশৃঙ্খলার অবনতির চিত্রকেই আবারও জনগণের সামনে নিয়ে এসেছে।
বিবৃতিতে ইউটিএফের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, কোনো স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এমন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান তারা।
এদিকে এই হামলার ঘটনার পর সাভার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনসিপির নেতাকর্মীরা ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে এখনো তৎপর রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমাবেশস্থলসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।