× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইবি শিক্ষিকাকে কুপিয়ে হত্যার পর কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২১:০৬ পিএম । আপডেটঃ ০৪ মার্চ ২০২৬, ২১:০৭ পিএম

নিহত সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা ও আহত কর্মচারী ফজলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক সংলগ্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শান্ত চত্বর আজ এক বিভীষিকাময় রক্তপাতের সাক্ষী হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তার নিজ অফিস কক্ষেই নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছেন ওই বিভাগেরই এক কর্মচারী। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ বিভাগে ইফতার মাহফিল থাকায় অফিস সময় শেষ হওয়ার পরেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে সভাপতির কক্ষ থেকে হঠাৎ ‘বাঁচাও বাঁচাও’ আর্তনাদ শুনে দৌড়ে যান আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

উদ্ধারকারী আনসার সদস্য আসমত আলী বলেন, "ভেতরে ঢুকে দেখি ম্যাম নিথর হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। আর কর্মচারী ফজলু উন্মত্তের মতো নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছেন।" দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ফজলুর রহমানের অবস্থাও বর্তমানে আশঙ্কাজনক।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কর্মস্থল পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত ক্ষোভকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাবিব জানান, ফজলুর রহমান গত ৮ বছর ধরে ওই বিভাগে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপেশাদার আচরণ, বিশৃঙ্খলা ও সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণে এক মাস আগে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ফজলু সমাজকল্যাণ বিভাগেই থাকতে চেয়েছিলেন এবং এ নিয়ে আসমা সাদিয়া রুনার সঙ্গে তার একাধিকবার বাদানুবাদও হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের ধারণা, প্রিয় বিভাগ থেকে বদলি হওয়া এবং বেতন সংক্রান্ত অসন্তোষ থেকেই এই প্রতিহিংসার জন্ম।

নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার স্বামী মোহাম্মদ ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। চার সন্তানের জননী এই শিক্ষিকার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, "আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।" ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.