× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ক্যাম্পাস রাজনীতিতে শিবিরের জয়জয়কার: কারণ কী?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৬ এএম । আপডেটঃ ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ এএম

দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম ছিল অপ্রকাশ্য।। ছবি: সংগৃহীত

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ দেড় দশকের স্থবিরতা ভেঙে শুরু হয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নতুন অধ্যায়। তবে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও ফলাফলের চিত্র প্রায় অভিন্ন। প্রতিটি ক্যাম্পাসেই শীর্ষ পদসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে জয়জয়কার ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের। দীর্ঘ সময় পর প্রকাশ্যে এসে শিবিরের এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন—কৌশলী সাংগঠনিক তৎপরতা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ ধারণ এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক ক্ষোভই এই জয়ের প্রধান নিয়ামক।

গত ৬ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ১৬টি পদেই জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য'। ৬৬.১৮ শতাংশ ভোটারের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ধারাবাহিক নির্বাচনেও একই ধরনের আধিপত্য বজায় রেখেছে সংগঠনটি।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের সময় অন্য দলগুলো যখন বিপর্যস্ত, তখন শিবির ভিন্ন কৌশলে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছিল। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, "বিগত ১৫ বছরে ক্যাম্পাসে যখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল না, শিবির তখন পরিচয় গোপন রেখে বা ছাত্রলীগের ভেতরে থেকেও নিজেদের সাংগঠনিক জাল বিস্তার করেছে। ফলে অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতা তারা সফলভাবে পূরণ করতে পেরেছে।"

একই সুর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের কণ্ঠেও। তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর সুপরিকল্পিত আর্থিক ও কৌশলগত পৃষ্ঠপোষকতা শিবিরকে অন্য সংগঠনগুলোর চেয়ে নির্বাচনী দৌড়ে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিবির নিজেদের 'ক্লিন ইমেজ' বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। আন্দোলনের কৃতিত্বের বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলেও কৌশলী প্রচারণার মাধ্যমে তার সুফল ঘরে তুলেছে তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম মনে করেন, শিক্ষার্থীরা এখন গতানুগতিক আদর্শের চেয়ে ‘কার্যকরী রাজনীতি’ বা তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান খুঁজছে। শিবিরের স্বাস্থ্যসেবা, ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং এবং ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লবিং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যাম্পাস রাজনীতির এই পালাবদলকে বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখছেন অনেক শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সামিয়া জামান বলেন, বিশ্বজুড়ে ডানপন্থার যে উত্থান, তার হাওয়া বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝেও লেগেছে। এছাড়া "আওয়ামী লীগ-বিএনপি তো দেখা হলো, এবার নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া যাক"—এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণাও ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে।

তবে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এই জয়কে দেখছেন 'ছাত্রবান্ধব রাজনীতির' স্বীকৃতি হিসেবে। তিনি বলেন, "আমরা গৎবাঁধা রাজনীতির বাইরে জুলাই-পরবর্তী নতুন কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করছি। শিক্ষার্থীরা কী চায়, তা বোঝাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.