× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাজেট: জ্বালানিতে সংকট, বিদ্যুৎখাতে গুরুত্ব

ন্যাশনাল ট্রিবিউন রিপোর্ট

০৬ জুন ২০২৪, ০৯:৪৮ এএম । আপডেটঃ ০৬ জুন ২০২৪, ১০:৫১ এএম

ছবি: প্রতীকী

ডলার ও অর্থসংকটে ব্যাহত হচ্ছে জ্বালানি আমদানি। ফলে সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন। পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য দেশীয় জ্বালানির অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য এ খাতে প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ। কিন্তু বরাবরের মতোই এবারও বাজেটে জ্বালানি খাত উপেক্ষিত থেকেছে।

আগামী অর্থবছরের (২৪-২৫) জন্য যেখানে বিদ্যুৎ খাতে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে জ্বালানির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ খাতের চেয়ে জ্বালানির বরাদ্দ ২৭ শতাংশ কম।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ মোট ৩০ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। চলতি অর্থ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। সেই হিসেবে আগামী অর্থবছরে এ খাতে মোট ৪ হাজার ৫০২ কোটি টাকা কম বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে ২৮ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা করা হয়।

২৩-২৪ অর্থবছরে জ্বালানি বিভাগের বরাদ্দ রাখা হয় ৯১১ কোটি টাকা। এর আগের ২২-২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১৭৯৮ কোটি টাকা। বিপরীতে ২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যুতে বরাদ্দ রাখা হয় ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। ২২-২৩ সালে বরাদ্দ ছিল ২৪ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যে শতভাগ জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৯ সালে ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট, যা বর্তমানে ৩০ হাজার ২৭৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস হতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ও ব্যবহার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

জ্বালানিখাতে অগ্রগতির কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের গ্যাসের উৎপাদন ছিল দৈনিক ১৭৪ কোটি ঘনফুট, যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ২১০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৪ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে অনশোর এলাকায় তেল বা গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য ৪৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামুদ্রিক খনিজ ও অন্যান্য সম্পদের আহরণ এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহারের গুরুত্ব বিবেচনায় সুনীল অর্থনীতি খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতের সংকটের মূল কারণ আমদানি নির্ভরতা। কারণ, কয়লার প্রায় পুরোটা, গ্যাসের এক তৃতীয়াংশ জ্বালানি তেলের প্রায় সবটুকু আমদানি করা হয়। এই নির্ভরতা কমাতে হলে দেশীয় জ্বালানির উপর গুরুত্ব দিতে হবে৷

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। সরকার ৪৮টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। একেকটি কূপ খননেই ২০০-২৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন। সেখানে ১০০০ কোটি টাকায় কি করবে, তা তারাই জানেন।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.