× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বিপুল বিনিয়োগ আয় হ্রাস ও খেলাপি ঋণে ইসলামী ব্যাংকের ৯ মাসে ৩,৩০৩ কোটি টাকা লোকসান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:১৫ এএম । আপডেটঃ ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:১৬ এএম

কন্ট্রোল ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের পর বিশাল খেলাপি ঋণ ও বিনিয়োগ আয় হ্রাসে রেকর্ড লোকসানের মুখে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ফাইল ছবি

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি চলতি ২০২৬ পঞ্জিকা বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকার কর-পরবর্তী বিশাল নিট লোকসান গুনেছে। বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় মারাত্মক হ্রাস পাওয়া, নজিরবিহীন খেলাপি ঋণ এবং বিগত সরকারের আমলে নামে-বেনামে ব্যাংকটির এক লাখ কোটি টাকা আত্মসাতের খেসারত হিসেবে এই চরম আর্থিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪১৪তম সভায় অনুমোদিত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী থেকে নজিরবিহীন এই লোকসানের তথ্য সামনে এসেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের একই সময়ে যেখানে ব্যাংকটি প্রায় ৭৯ কোটি টাকা মুনাফায় ছিল, সেখানে এ বছর বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেই ব্যাংকটির একক লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।

আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশাল এই লোকসানের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) এবং নিট সম্পদমূল্যে (এনএভি)। গত ৯ মাসে ব্যাংকটির একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ টাকা ৫১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯ পয়সা ইতিবাচক। সমন্বিত হিসাবেও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৪৪ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে একলাফে কমে ২৩ টাকা ৬৪ পয়সায় নেমে এসেছে।

ব্যাংকের পর্ষদ সভায় উত্থাপিত নথিতে এই সংকটজনক পরিস্থিতির কারণ উল্লেখ করে বলা হয়, "ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী পক্ষের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিনিয়োগ থেকে আয় মারাত্মকভাবে কমেছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চ মাত্রা এবং আমানতকারীদের মুনাফা পরিশোধের খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ লোকসান তৈরি হয়েছে।"

ব্যাংকিং খাতের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নামে-বেনামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বের করে নেয়, যা পরবর্তীতে পুরোটাই খেলাপি হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের দখলমুক্ত হয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো ও অনাদায়ী বিশাল খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নজরদারিতে পুনর্গঠন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা নগদ প্রবাহ ও সম্পদের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় পুরো আর্থিক খাতজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.