পোশাক কারখানায় রফতানির জন্য তৈরি পোশাকের মান যাচাই করছেন একদল শ্রমিক। ফাইল ছবি
ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে মন্দা সত্ত্বেও নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে ইতালির বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশের এক অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। জুলাই মাসে ইতালিতে ১৪ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পোশাক পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তবে জার্মানি, ফ্রান্স ও কানাডার মতো প্রধান বাজারগুলোতে রফতানি কমায় সার্বিকভাবে জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে পোশাক রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য সংকলন করে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস’ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে মোট পোশাক রফতানির ৪৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ আসলেও অঞ্চলটিতে সার্বিক রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিশেষ করে ইইউর সবচেয়ে বড় বাজার জার্মানিতে ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ৪৫ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং ফ্রান্সে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ১৬ কোটি ৯ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। তবে জার্মানি ও ফ্রান্সে পতন হলেও ইতালির বিশাল প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি স্পেনে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ ও নেদারল্যান্ডসে ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পুরো অঞ্চলের ওপর তৈরি হওয়া বড় ধাক্কা সামলে নিতে সাহায্য করেছে।
একক বৃহত্তম গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ৭৯ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ডলারে পৌঁছে প্রায় অপরিবর্তিত (দশমিক ১৮ শতাংশ হ্রাস) থাকলেও যুক্তরাজ্যে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং কানাডায় ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ বড় পতন দেখা গেছে। এছাড়া পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী, নিট পোশাকে দশমিক ৯০ শতাংশ পতন হলেও ওভেন পোশাকে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশের অপেক্ষাকৃত বেশি পতন ঘটেছে। অপরদিকে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে মোট ৫৮ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের রফতানি অর্জিত হয়েছে, যার মধ্যে জাপানে রফতানি সামান্য (দশমিক ২৯ শতাংশ) বেড়েছে।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "পোশাক রফতানি বাড়াতে হলে প্রথমে শিল্পের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো দূর করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সময়মতো পণ্য তৈরি ও জাহাজীকরণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসার খরচ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।"
উৎপাদন খরচের বাড়তি চাপ ও বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও সদ্য বিদায়ী জুনের তুলনায় জুলাই মাসে পোশাক রফতানিতে ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশের শক্তিশালী মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একক কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে রফতানি ঝুড়িতে বৈচিত্র্য আনা এবং উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজার সম্প্রসারণ করতে পারলে চলতি অর্থবছরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, "জুলাইয়ের পোশাক রফতানিতে একদিকে যেমন মাসভিত্তিক ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে, অন্যদিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে। ইউরোপের বড় বাজারগুলোতে চাপ থাকলেও ইতালি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের মতো বাজারে প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। প্রচলিত বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এখন জরুরি।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
