× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১৩০ কোটি ডলারের চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭ এএম । আপডেটঃ ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ এএম

চীন ও বাংলাদেশ পতাকা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হলো ৭৮৩ একর জমিতে 'চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল' নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সুপরিকল্পিত কানেক্টিভিটি বলয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই মেগা প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি তৈরি হতে যাচ্ছে এক লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে চীন থেকে প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার (দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা) প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। গত সোমবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে অবকাঠামোগত ভিত্তি স্থাপিত হলেও প্রকল্পের মূল উন্নয়ন কাজ শুরু হবে আগামী বছরের জানুয়ারিতে, যা ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রূপ নেবে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প করিডরে।

ভিত্তিপোতা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "আনোয়ারার এই বিশ্বমানের শিল্পাঞ্চলে পরিশেষে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ আসবে, যা শুধু স্থানীয় অর্থনীতিতেই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ সমগ্র বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে অভাবনীয় গতি আনবে।"

দীর্ঘ জটিলতা কাটিয়ে ২০২২ সালে চীন সরকারের মনোনীত ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) ডেভেলপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পের গতি নির্ধারিত হয়। সুবিধাজনক অবকাঠামোর অংশ হিসেবে এখানে তৈরি করা হচ্ছে ১,২৩৫ মিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কসহ ২০ হাজার ডেডওয়েট টন সক্ষমতার নিজস্ব বহুমুখী জেটি, দিনে আড়াই কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব ইএফএলটি (সিইটিপি) শোধনাগার এবং দুটি ডেডিকেটেড বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। বেজার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ প্লট উৎপাদনক্ষম শিল্পের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

শিল্প অবকাঠামোর এই মেলবন্ধনকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের ত্রিভুজ সংযোগে গড়ে ওঠা এই পার্কটি দেশের শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হবে। তবে শুরুতেই নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও সিইটিপির মতো উপযোগ সুবিধা দ্রুততম সময়ে সুনিশ্চিত করাই হবে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও পরিচালনার মূল চাবিকাঠি।"

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০৩০ সালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও ২০৩১ সালে এই শিল্পাঞ্চলের নির্মাণ সম্পন্ন হলে তা কর্ণফুলী টানেলের বাণিজ্যিক ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা প্রদান এবং সময়মতো আনোয়ারা-বাঁশখালী-পেকুয়া চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী লজিস্টিক ও উৎপাদন হাব হিসেবে রূপ নেবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.