× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১০% শুল্ক, দুশ্চিন্তায় রপ্তানিকারকেরা

অর্থনীতি প্রতিবেদক:

২৪ জুলাই ২০২৬, ১৯:০০ পিএম । আপডেটঃ ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৯:০১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের অজুহাতে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক নোটিশে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১–এর আওতায় অতিরিক্ত এই শুল্ক ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে থাকা পণ্যগুলো আগামী ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ নিয়মিত শুল্ক বহাল রয়েছে। নতুন করে ১০ শতাংশ যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কহার গিয়ে দাঁড়াবে ২৫ শতাংশে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের মেটাতে হবে। ভারত, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের পণ্যেও ১০ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ও চীনের পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, "প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করছি। আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদের একই পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আরও আগেই পেরিয়ে গেছে। আজকের পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাণিজ্য বিকৃতকারী এই চর্চা সংশোধনের সূচনা করবে।"

ব্যবসায়ীরা জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে পাল্টা শুল্কের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশের পর নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক বসায় মোট শুল্কহারে তাত্ক্ষণিক বড় পরিবর্তন আসবে না। বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে পাল্টা শুল্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ৪ শতাংশ বেড়ে ৯০৪ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছিল। তবে মার্কিন ইউএসটিআরের নতুন আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের মুখে থাকায় শুল্কের বাড়তি চাপ নিয়ে রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "যেহেতু প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপরও বাড়তি শুল্কহার একইভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে, সেহেতু তাৎক্ষণিকভাবে রপ্তানিতে নতুন প্রভাব পড়ার কারণ দেখছি না। তবে জোরপূর্বক শ্রমের অজুহাতে এই শুল্ক আরোপ করা একেবারেই অন্যায় ও অযৌক্তিক।"

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, "শেষ বিচারে প্রতিযোগীদের তুলনায় আমাদের শুল্ক যদি বেশি না হয়, তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে ক্রেতারা ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য শুল্ক হিসাব করেই তৈরি পোশাকের দর–কষাকষি করছে।"

মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষে কার্যকর হওয়া এই শুল্ক ব্যবস্থা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকশিল্পের জন্য নতুন বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.