উপসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকর্তাদের মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকাই বহাল থাকছে। আজ বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে পূর্ববর্তী প্রস্তাবের ওপর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।
এর আগে, দেশের সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে গত ৯ জুলাই প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ করে দেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই অর্থ বিভাগ কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের মাসিক বরাদ্দ অর্ধেক করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে আজ অনুষ্ঠিতব্য সরকারের অংশীজনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও স্থগিত করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, "আজ বেলা সাড়ে তিনটায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ অংশীজনদের সঙ্গে একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি ও কর্মকর্তাদের অসন্তোষ বিবেচনা করে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে এবং অর্থ বিভাগ তার আগের ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।"
উল্লেখ্য, সরকারের প্রাধিকারভুক্ত বেসামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এই গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। আজকের এই নতুন নির্দেশনার ফলে সব বিভাগের কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধায় আর কোনো কাটছাঁট হচ্ছে না। সরকারের এই পিছুহটার ফলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচনের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তা বাস্তবায়নে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।