মংলা সমুদ্রবন্দরের জেটিতে নোঙর করা বাণিজ্যিক জাহাজ। ফাইল ছবি
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকায়নে চীনের সম্পৃক্ততা ও একটি প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরকে কেন্দ্র করে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক শোরগোল ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বেইজিংয়ের এই সম্পৃক্ততাকে বঙ্গোপসাগরে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিত্রায়িত করে দিল্লির সংবাদমাধ্যমগুলো একের পর এক বিশেষ বিশ্লেষণ প্রচার করছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় মিডিয়ার এই অতি-উদ্বেগ আসলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে প্রকৃত কোনো উৎকণ্ঠা নয়। বরং দক্ষিণ এশিয়ায় বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বৃদ্ধির ফলে দিল্লির নিজস্ব আঞ্চলিক অস্বস্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
ভারতীয় টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে মংলা বন্দরে চীনের অংশগ্রহণের খবরটি অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সম্প্রচার মাধ্যমগুলোতে মানচিত্রে তীর চিহ্ন ব্যবহার করে ভূরাজনীতির এক 'মহাপ্রলয়ের' পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতার প্রভাবশালী দৈনিক 'আনন্দবাজার পত্রিকা' একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে— "দরজা খুলে বঙ্গোপসাগরে চীনকে মেগা এন্ট্রি, খাল কেটে কুমির আনছে তারেকের বাংলাদেশ: কেন দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ"।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, মংলা বন্দরে বেইজিংয়ের এই সম্পৃক্ততা কেবল কোনো সাধারণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়। তাদের বিশ্লেষণে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বেইজিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাবে বাংলাদেশ চূড়ান্ত সম্মতি জানালে এই অঞ্চলে চীনের আধিপত্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও তারা দাবি করছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ কাকে উন্নয়ন অংশীদার করবে বা কার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করবে। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ঢাকার রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের পেছনে কেবল সামরিক বা ভূরাজনৈতিক আশঙ্কা খোঁজার এই প্রবণতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মংলা বন্দরের উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফলে দিল্লির কৌশলগত অস্বস্তি সত্ত্বেও ঢাকা তার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবেই এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিচ্ছে। ওয়াশিংটন, দিল্লি ও বেইজিংয়ের ত্রিদেশীয় ভূরাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে মংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক কূটনীতি আরও কতটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
