× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

উত্তরবঙ্গের কৃষিতে ৩ হাজার কোটির বিশেষ তহবিল, ঋণ মিলবে ৯% সুদে

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ এএম । আপডেটঃ ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল গ্রাফিক্স: সংগৃহীত

দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। 

সোমবার (৬ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে জানায়, উদ্যোক্তা ও কৃষকেরা বর্তমান বাজারদরের চেয়ে কম, অর্থাৎ মাত্র ৯ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাবেন।

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্যের আধুনিক ফসল-উত্তর ব্যবস্থাপনা, বিশেষায়িত হিমাগারের অভাব ও বাজারজাতকরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা দূর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্পূর্ণ কৃষি মূল্য শৃঙ্খলকে (ভ্যালু চেইন) শক্তিশালী করাই এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য।

বিতরণের সুবিধার্থে মোট ৩ হাজার কোটি টাকার এই তহবিলকে প্রধান চারটি খাতে ভাগ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক:

  • কৃষি উৎপাদন খাত: মোট তহবিলের ১৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ঋণ ৩০ লাখ টাকা)।
  • সংরক্ষণ, পরিবহন ও অবকাঠামো খাত: মোট তহবিলের ৩৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ঋণ ৪০ কোটি টাকা)।
  • পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত: মোট তহবিলের ৩৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ঋণ ৪০ কোটি টাকা)।
  • কৃষিপণ্য রপ্তানি খাত: মোট তহবিলের বাকি ১৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ঋণ ১৫ কোটি টাকা)।


নারী ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য বিশেষ সুবিধা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের একক বা দলবদ্ধ কৃষক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের খামারি এবং কৃষিভিত্তিক সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা এই ঋণ পাবেন। নারী ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য জামানতের শর্ত শিথিল করে স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে সামাজিক বা দলগত জামানতের ভিত্তিতে অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ঋণদাতা ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল সংগ্রহ করে গ্রাহক পর্যায়ে ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করবে। তবে বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় ব্যাংকগুলো ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে বা কমাতে পারবে।

তহবিলের অপব্যবহার রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, "এই তহবিলের অর্থ শুধু ‘নতুন ঋণ’ হিসেবে বিতরণ করতে হবে। কোনোভাবেই পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার জন্য এই তহবিল ব্যবহার করা যাবে না এবং খেলাপি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।"

উৎপাদন খাতের ঋণের মেয়াদ ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৮ মাস এবং অন্যান্য খাতের (সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি) জন্য ৩ থেকে ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩৬ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মাশুল ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অন্য কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না।

অর্থনীতিবিদ ও কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, হিমাগার ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এই বিশেষ তহবিলটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গে টেকসই কৃষিভিত্তিক শিল্প বিপ্লব ঘটবে, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আগ্রহী গ্রাহকদের নিকটস্থ তফসিলি ব্যাংকের শাখা, উপশাখা বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.