× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে পৌনে ৪ লাখ, বছরজুড়েই দেওয়া যাবে রিটার্ন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১২ জুন ২০২৬, ০০:১৯ এএম । আপডেটঃ ১২ জুন ২০২৬, ০২:৪১ এএম

ছবি: বিবিসি

দেশব্যাপী চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পৌনে ৪ লাখ (৩ লাখ ৭৫ হাজার) টাকা করার প্রস্তাব করেছে সরকার। একই সঙ্গে কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার এনে প্রথম ধাপে বিদ্যমান ৫ শতাংশ কর স্তরটি সম্পূর্ণ বাতিলে প্রস্তাব করা হয়েছে এবং করদাতাদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট প্রণোদনা ও জরিমানার বিধান রেখে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ চালু করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন কর কাঠামোর ঘোষণা দেন, যা আগামী ২০২৭-৮ অর্থবছর পর্যন্ত কার্যকর রাখার আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। 

আজ বিকেলে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে নতুন অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। এর আগে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গত বাজেটে এই করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির প্রাথমিক রূপরেখা দিয়েছিলেন, যা বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বহাল রাখল। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, "উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা এবং মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।"

সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি সমাজে পিছিয়ে পড়া ও বিশেষ অবদান রাখা জনগোষ্ঠীর জন্য করমুক্ত আয়ের সীমায় উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নারী এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতাদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া ৪ লাখ (৪ লাখ ২৫ হাজার) টাকা। তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য এই সীমা বৃদ্ধি করে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা সোয়া ৫ লাখ (৫ লাখ ২৫ হাজার) টাকা করার বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য এই করমুক্ত সীমা বিদ্যমান কাঠামোর চেয়ে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি পাবে।

এবারের বাজেটে আয়করের স্ল্যাব বা স্তর পুনর্গঠনে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। করমুক্ত সীমার ঠিক পরবর্তী প্রথম ১ লাখ টাকার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ৫ শতাংশ করের হারটি এবার সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর ফলে করদাতাদের কর হিসাবায়ন পদ্ধতি যেমন সহজ হবে, তেমনি নিম্ন-মধ্যবিত্তরা সরাসরি করের চাপ থেকে রেহাই পাবেন।

তবে করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বে যাদের বার্ষিক আয়, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, তার পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট সব ধরনের আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ৫ শতাংশের স্তর উঠে যাওয়ায় এবং পরবর্তী ধাপগুলোর বিন্যাসের কারণে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর সার্বিক করের বোঝা কিছুটা বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রতিবছর গড়ে ৪০ থেকে ৪২ লাখ করদাতা নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন।

কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন ও করদাতাদের হয়রানি কমাতে এখন থেকে বছরের যেকোনো সময় আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে বিশেষ করছাড়ের সুবিধা রাখা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা—যেরটি কম, সেই পরিমাণ অর্থ রেয়াত বা ছাড় পাবেন করদাতা।

দ্বিতীয় প্রান্তিক তথা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাকে মূল প্রদেয় করই পরিশোধ করতে হবে, এক্ষেত্রে কোনো বাড়তি সুবিধা বা জরিমানা থাকবে না। তবে জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা (যা বেশি) এবং শেষ প্রান্তিক এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে জমা দিলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা (যা বেশি) জরিমানা হিসেবে গুণতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত তিন বছর ধরে গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি চলায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বাজেটে করমুক্ত সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় এই সীমা অপরিবর্তিত থাকায় সীমিত আয়ের মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিলেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, "উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে এই করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি মধ্যবিত্তের ক্ষতে সামান্য প্রলেপ দেবে, তবে এটি একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে করের আওতা না বাড়িয়ে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর ওপরের স্তরে চাপ বাড়ানো হলে তা রাজস্ব আহরণের টেকসই মডেল হবে না।"

নতুন এই কর কাঠামোর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে ব্যবহারযোগ্য অর্থের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে, অন্যদিকে বছরজুড়ে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগের ফলে কর অফিসে শেষ মুহূর্তের ভিড় ও ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.