× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বন্ধ কারখানা সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল, ঋণ মিলবে অর্ধেক সুদে

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৫ জুন ২০২৬, ০২:০২ এএম । আপডেটঃ ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বন্ধ এবং আংশিক চালু কারখানা পুরোপুরি সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রাক-অর্থায়ন স্কিম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদের হার ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও, এই বিশেষ তহবিল থেকে শিল্পোদ্যোক্তারা বর্তমান হারের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ মাত্র ৭ শতাংশ সুদে চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নীতিমালার কথা জানানো হয়। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও কেবল চলতি মূলধনের অভাবে উৎপাদন চালাতে পারছে না, তারা এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে। গত ২৩ মে অর্থনীতি চাঙা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বৃহৎ প্যাকেজের ধারাবাহিকতায় আজ এই ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা হলো।

এই স্কিমের আওতায় দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ঋণের অপব্যবহার রুখতে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঋণগ্রহীতা কোম্পানিতে ব্যাংকগুলো নিজস্ব প্রতিনিধি বসানোর সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রজ্ঞাপনের বরাত দিয়ে জানান, "এই তহবিলের প্রধান লক্ষ্য হলো বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা। কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য কোনো কারখানা সচল করার উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করে বা ইজারা নেয়, তবে তারাও এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে।"

নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় খেলাপি হওয়া যাবে না এবং অতীতে অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড থাকা চলবে না। এই ঋণের অর্থ দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল কেনা যাবে। তবে শ্রমিকদের বেতন কোনোভাবেই নগদে দেওয়া যাবে না, তা সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে। এছাড়া, এই বিশেষ ঋণ দিয়ে আগের কোনো পুরোনো ঋণের দায় সমন্বয় বা পরিশোধ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঋণ আদায় ও কঠোর তদারকি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে নীতিমালায় বলা হয়েছে, গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর এবং প্রথম ৬ মাস কোনো কিস্তি দিতে হবে না (গ্রেস পিরিয়ড)। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকগুলো অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, "ঋণ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের সঠিক তদারকির জন্য ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করবে। এই নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে অনন্য অবদান রাখা গ্রাহক ও অংশীদার ব্যাংকগুলোকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হবে।"

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হারের এই বিদ্যমান সংকটে উৎপাদন খাতের জন্য এই প্রাক-অর্থায়ন স্কিম একটি যুগান্তকারী সঞ্জীবনী রসদ হিসেবে কাজ করবে। তবে খেলাপি ঋণ ও পূর্বের অর্থ পাচারের ট্র্যাক রেকর্ড সঠিকভাবে স্ক্রিনিং করে প্রকৃত উৎপাদনশীল খাতে এই বিপুল অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.