× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া আত্মঘাতী ও অসাংবিধানিক: টিআইবি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৪ জুন ২০২৬, ২১:৪৭ পিএম । আপডেটঃ ০৪ জুন ২০২৬, ২১:৪৯ পিএম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ ঘোষণার মাধ্যমে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই পরিকল্পনাকে অসাংবিধানিক, দুর্নীতিসহায়ক ও বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সংস্কারমুখী অবস্থান থেকে সরে এসে নির্বাচিত সরকারের এমন উদ্যোগকে ‘এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়া’ বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

বিবৃতিতে বলা হয়, আবাসন খাতে স্থবিরতা দূর বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অজুহাতে দুর্নীতিবাজদের এমন ‘পরিপূর্ণ দায়মুক্তি’ দেওয়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার শামিল। এর ফলে দেশে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়বে এবং সৎ ও বৈধ আয়ের করদাতারা চরমভাবে নিরুৎসাহিত হবেন।

সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং জাতীয় জুলাই সনদের স্পষ্ট পরিপন্থী এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার বড় সুযোগ সৃষ্টি করছে। অতীতে বারবার এই নীতি অবলম্বন করেও রাজস্ব আদায়ে কোনো উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া যায়নি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিটি সরকার সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ পরিপন্থী এই অনৈতিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে বিপুল জনরায়ে নির্বাচিত বর্তমান সরকার যদি স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী শ্রেণির চাপে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিপন্থী হবে। সরকারের উচিত এই অনৈতিক পথ চিরতরে বন্ধ করা।"

বিবৃতিতে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং জাতীয় জুলাই সনদের ৬৭ ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধে সব রাজনৈতিক দল সর্বসম্মত অঙ্গীকার করেছিল। টিআইবি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, আবাসন খাতের একটি নির্দিষ্ট লবির প্রভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নিয়ে দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

একই সাথে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার সরকারি পরিকল্পনার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, "বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থ ফেরত আনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ইতিবাচক হতে পারে, তবে যাঁরা অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা যেন কোনোভাবেই এই সুযোগ না পান। অর্থ পাচারকারীদের জন্য কোনো বিবেচনাতেই সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য হতে পারে না, এটি সরকারকে কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।"

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কর কাঠামোতে সমতা আনা জরুরি। আসন্ন বাজেটে কালোটাকা সাদা করার মতো বিতর্কিত সুযোগ শেষ পর্যন্ত বহাল রাখা হলে, তা বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.