× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাংলাদেশি পণ্যে আরও ১০% শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ০২:১৩ এএম । আপডেটঃ ০৪ জুন ২০২৬, ০২:২৩ এএম

জোরপূর্বক শ্রম ও অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের 'ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ' নীতিকে অবৈধ ঘোষণার পর, ওয়াশিংটন এই ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করল। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপতে পারে, যা দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাক শিল্পকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ওয়াশিংটনে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমসন গ্রিয়ার বলেন, "জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানির বিষয়টি মোকাবিলায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য। এটি এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে আমেরিকান শ্রমিকরা বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে বাধ্য হন।"

ইউএসটিআর-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ ইতোমধ্যে জোরপূর্বক শ্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে তা কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে। বাংলাদেশ, কানাডা, ইইউ, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়াসহ ১৪টি দেশ এই তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, চীন ও ভারতসহ বাকি ৪৫টি দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে জ্বালানি, ওষুধ, গরুর মাংস ও বিমানের যন্ত্রাংশসহ বেশ কিছু জরুরি খাতকে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা শুল্ক আদায়ের 'নতুন কৌশল' হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড' চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ১৯ শতাংশ বাড়নি শুল্ক দেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই নতুন এই ধাক্কা এলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে সই হওয়া ওই চুক্তিটি নিয়ে এমনিতেই অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সমালোচনা রয়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, "ট্যারিফ আদায়ের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে নিয়েছিল, সেটিই আইনের মারপ্যাঁচে ভিন্ন আঙ্গিকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। ফোর্স লেবার বা এক্সেস প্রোডাকশনের মতো আপেক্ষিক বিষয়গুলোকে ওরা আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।"

তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেছে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "জোরপূর্বক শ্রমের যে অজুহাত তারা দিয়েছে, তার একটা প্রমাণও কি তারা দিতে পারবে? বাংলাদেশে শ্রমিকদের জোর করে কাজ করানোর প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশ আইএলও-র ১০টি কোর কনভেনশনে সই করেছে, যেখানে আমেরিকা করেছে মাত্র দুটিতে।"

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, এই অতিরিক্ত শুল্কের বিষয়টিও মার্কিন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, "মার্কিন ট্যারিফের দিকে না তাকিয়ে বাংলাদেশের বরং উচিত হবে শ্রম অধিকারের বিষয়ে যদি কোনো দুর্বলতা থাকে, তবে নিজেদের তাগিদেই তা সংশোধন করা।"

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় শুরু হওয়া এই তদন্ত ও নতুন শুল্ক প্রস্তাবের বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি।


তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.