মঙ্গলবার সকালে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে আজ মঙ্গলবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়সহ সারা দেশের শাখাগুলো। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা বিতর্কিত এস আলম গ্রুপকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার এবং পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি বর্তমান পর্ষদের তাৎক্ষণিক অপসারণ দাবি করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির ঠিক আগে শেষ কর্মদিবসে তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিতর্কিত এই নিয়োগের প্রতিবাদে ঈদের ছুটির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ডাকলে তাতে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। গ্রাহক ফোরামের দাবি, পুলিশের এই অ্যাকশনে অন্তত ২৫ জন সাধারণ গ্রাহক আহত হয়েছেন।
পুলিশি বাধার মুখে গতকাল ব্যাংকের নির্ধারিত পর্ষদ সভা বাতিল হলেও গভীর রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে অনলাইনে (ভার্চুয়ালি) সভা সম্পন্ন করে নতুন পর্ষদ। তবে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওই সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কোম্পানি সচিব উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনার পর আন্দোলনের তীব্রতা বাড়িয়ে পুরো পর্ষদেরই পদত্যাগ দাবি করছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর গ্রুপটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারালে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়ে পর্ষদ পুনর্গঠন করে। তবে নতুন পর্ষদের অধীনেও ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তগুলোতে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। কোনো ব্যাংকেই রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না এবং সড়কে আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা যাবে না।"
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকেরা বলছেন, মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালে যেখানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে, যার আর্থিক মূল্য ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও বর্তমান পর্ষদ নিয়ে গ্রাহকদের তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের কারণে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ তারল্য সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
