রাজধানীর যানজট নিরসনে নির্মিত দেশের প্রথম মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬)-এর একটি দৃশ্য। নতুন অর্থবছরে তিনটি লাইনে বড় বরাদ্দ দেওয়া হলেও দুর্নীতির তদন্তের মুখে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বাকি তিনটি লাইনের ভবিষ্যৎ। সংগৃহীত ছবি: গ্রাফিক্স
রাজধানীর যানজট নিরসনে চলমান ছয়টি মেট্রোরেল প্রকল্পের তিনটিতে বড় অঙ্কের নতুন বরাদ্দ দেওয়া হলেও থমকে গেছে বাকি তিনটি মেগা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। ২০blank অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এমআরটি লাইন-১, ৫ (নর্দান রুট) এবং লাইন-৬ এর জন্য মোট ১৩ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিগত সরকারের সময়ে গৃহীত প্রকল্পগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির খোঁজে তদন্ত শুরু হওয়ায় এমআরটি লাইন-২, ৪ এবং লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) এর কার্যক্রম আপাতত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সরকারের আইএমইডি (বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) তদন্ত শেষ করার পর এই তিনটি প্রকল্পের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিগত সময়ে মেগা প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনস্বার্থহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।
"বিগত সময়ে কিছু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি কিংবা অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যেসব প্রকল্প এসেছে, সেগুলো শনাক্ত করবে আইএমইডি। তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"— আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, "আমরা মনে করি এ প্রকল্পগুলো নতুনভাবে হবে। কারণ, সেগুলো তো সময়মতো শেষ করতে হবে। অসমাপ্ত কাজগুলো কতটুকু সমাপ্ত করবো, সেগুলো রিভিউয়ের মাধ্যমে সমাধান হবে। যেগুলোর আসলে প্রয়োজনীয়তা নেই, সেগুলো বাদ দেওয়া হবে।"
সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সচল রাখা তিনটি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে। প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| প্রকল্পের নাম | রুটের বিবরণ | ২০blank অর্থবছরে বরাদ্দ | বর্তমান অবস্থা ও লক্ষ্য |
| এমআরটি লাইন-১ (দেশের ১ম পাতাল রেল) | বিমানবন্দর-কমলাপুর এবং নতুনবাজার-পূর্বাচল (৩১.২৪ কিমি) | ৭,৩৫০ কোটি টাকা | কাজ চলমান, মেয়াদ আরও ৪ বছর বাড়তে পারে। |
| এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) | হেমায়েতপুর-মিরপুর-ভাটারা (২০ কিমি: ১৩.৫ কিমি পাতাল, ৬.৫ কিমি উড়াল) | ৩,৯০৯ কোটি টাকা | কাজ এগিয়ে নিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা। |
| এমআরটি লাইন-৬ (অসমাপ্ত অংশ) | মতিঝিল থেকে কমলাপুর বর্ধিতাংশ | ১,৮৯৯ কোটি টাকা | কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। |
এডিপিতে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের বাকি তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প। এগুলো হলো:
১. এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন): গাবতলী-আফতাবনগর-দাশেরকান্দি (১৭.২০ কিমি, ব্যয়: ৪৭,৬৪৯ কোটি টাকা)।
২. এমআরটি লাইন-২: গাবতলী-মোহাম্মদপুর-আজিমপুর-ডেমরা-তারাবো (২৩.৫ কিমি, ব্যয়: প্রায় ৬১,০০০ কোটি টাকা)।
৩. এমআরটি লাইন-৪: কমলাপুর-সায়েদাবাদ-নারায়ণগঞ্জের মদনপুর (১৬ কিমি, ব্যয়: ২৮,৪০০ কোটি টাকা)।
প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট সমন্বয়হীনতা ও অনিশ্চয়তা প্রকাশ পেয়েছে।
"বাকি তিনটির কী হবে আমি জানি না। আমি আছি আর কয়েকদিন। এ বিষয়ে কিছু বলবো না। তিনটি মেট্রোরেলের ভাগ্য কী হবে কিছুই জানি না।"— মো. আব্দুল বাকী মিয়া, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), ডিএমটিসিএল।
ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, "বাকিগুলো প্রাথমিক ধাপে আছে। আমরা প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করতে পারি কিন্তু সিদ্ধান্ত কী হবে সরকার নেবে। সিদ্ধান্ত কী হয়েছে আমরা জানি না।"
ডিএমটিসিএল-এর মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকার বুকে মোট ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয়টি মেট্রো লাইন নির্মাণের কথা ছিল। এই নেটওয়ার্কে ৫১টি উড়াল ও ৫৩টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনসহ দৈনিক ৪৭ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি এবং দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিশাল নেটওয়ার্ক সম্পন্ন হওয়া এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্থগিত হওয়া তিন প্রকল্পের ভাগ্য তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
