পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিপণিবিতান ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের যে কড়াকড়ি ছিল, তা ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সাময়িকভাবে শিথিল করা হলো। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগের এক দাপ্তরিক চিঠিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয় ২ শাখা থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, মঙ্গলবার থেকেই সারাদেশে এই নতুন সময়সূচী কার্যকর হবে এবং তা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে গত ৩ এপ্রিল থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টা এবং পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে ৭টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা কার্যকর ছিল।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত ৭ মে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান চালুর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে সেই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন ঘটেছে। চিঠিটি পাওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তবে জ্বালানি সাশ্রয়ের চ্যালেঞ্জটি এখনও বিদ্যমান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা মোকাবিলায় সরকার গত মাস থেকে কঠোর বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতি গ্রহণ করে।
ঈদের সময় কেনাকাটার ভিড় সামাল দিতে এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিন ঘণ্টা সময় বাড়ানো হলেও, ঈদ পরবর্তী সময়ে এই সুবিধা বজায় থাকবে কি না তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর জানানো হবে।