বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২৬ দিনেই দেশে এসেছে ২.৭১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৬ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের এপ্রিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২.২৭১ বিলিয়ন ডলার। চলতি মাসে তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২.৭১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২৬ এপ্রিল একদিনেই দেশে এসেছে ১৩৯ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২৮.৯২৬ বিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অর্থবছর ভিত্তিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২০.২ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টরা এই উল্লম্ফনের পেছনে বেশ কিছু কার্যকর কারণ চিহ্নিত করেছেন। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার আধুনিকায়ন এবং প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধিকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করেছে।
প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং ডলার সংকটের চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অর্জনকে টেকসই করতে হলে কেবল বর্তমান ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে।
রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক অর্জন নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলন। ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতভাবেই নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে এই প্রবাহের মসৃণতা বজায় রাখা এবং প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজলভ্য করার কোনো বিকল্প নেই।