× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অকার্যকর টিআইএন বাতিলে ‘ক্লিনজিং অপারেশন’, কর ব্যবস্থায় আসছে ডিজিটাল রূপান্তর

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১০ এএম । আপডেটঃ ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১০ এএম

এনবিআর |

দেশের কর ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে একসঙ্গে একাধিক সংস্কার উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। টিআইএন বাতিলে 'ক্লিনজিং অপারেশন' থেকে শুরু করে কিউআর কোডে ভ্যাট যাচাই পর্যন্ত — এই সংস্কার পরিকল্পনা করদাতা চিহ্নিতকরণ ও রাজস্ব আদায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সদস্যসহ অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) নিবন্ধিত থাকলেও সক্রিয় করদাতার প্রকৃত সংখ্যা তার তুলনায় বহুগুণ কম। এই ব্যবধান ঘোচাতে শিগগিরই শুরু হবে 'ক্লিনজিং অপারেশন' — যার আওতায় করযোগ্য আয় না থাকা সত্ত্বেও টিআইএন গ্রহণকারী এবং দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা নম্বরগুলো বাতিল বা ডিরেজিস্ট্রেশন করা হবে।

কর প্রশাসনকে আধুনিক ও কার্যকর করতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে যেসব নিবন্ধিত করদাতা নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দেবেন না, তাঁদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হবে — যা কর জালের আওতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে এনবিআর।

ভ্যাট ফাঁকি রোধে এনবিআর ফ্যাক্টরি পর্যায় থেকেই পণ্যকে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনতে চায়। পণ্য উৎপাদনের শুরু থেকেই তা কর ব্যবস্থায় নথিভুক্ত থাকবে। ভোক্তারা স্মার্টফোনে কিউআর কোড স্ক্যান করে নিশ্চিত হতে পারবেন পণ্যে ভ্যাট পরিশোধ হয়েছে কি না। ভ্যাট ফাঁকি প্রমাণিত হলে জরিমানা আরোপের পাশাপাশি তথ্যদাতাদের পুরস্কৃত করারও ব্যবস্থা রাখা হবে।

প্রাথমিকভাবে পানি, পানীয়, সাবান ও শ্যাম্পুসহ বহুল ব্যবহৃত ভোগ্যপণ্যে এই 'ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস' পদ্ধতি চালু করা হবে, যা পর্যায়ক্রমে সব ধরনের পণ্যে সম্প্রসারিত হবে।

ট্রান্সফার প্রাইসিং খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আলাদা 'মাস্টার ইউনিট' গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে এ-সংক্রান্ত আইন প্রণীত হলেও দীর্ঘ এক দশকে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে স্বীকার করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। কর্পোরেট কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেসের সঙ্গে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার সংযুক্তির কাজও এগিয়ে চলছে।

ব্যবসায়ীদের একাধিকবার অগ্রিম কর পরিশোধের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে 'বাস্তব' বলে স্বীকার করেন এনবিআর প্রধান। সমাধানে বর্তমান ৩ লাখ টাকার অব্যাহতিসীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত করদাতা ও ফাঁকিদাতাদের মধ্যকার বৈষম্য নিরসনে বাজার অংশীদারত্বভিত্তিক কর প্রদানের একটি বেঞ্চমার্কিং পদ্ধতিও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিষয় : আয়কর এনবিআর

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.