ডলার। ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ও ধারাবাহিক প্রবাহে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বইছে স্বস্তির হাওয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট (গ্রস) রিজার্ভ আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণে এই রিজার্ভ এখন ৩০ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের বহিঃস্থ খাতের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৈদেশিক মুদ্রার এই শক্তিশালী অবস্থানের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসীদের পাঠানো আয়। চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে ১ হাজার ৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। একদিনেই (১৫ এপ্রিল) সর্বোচ্চ ১৮১ মিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যা ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহকে স্থিতিশীল করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন (২৭,৯৯৬ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৪ শতাংশ, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সক্রিয় অবস্থান বজায় রেখেছে। ১৬ এপ্রিল চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও সুসংহত করেছে। এ সময় ডলারের বিনিময় হার (কাট-অফ রেট) ছিল ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাজার থেকে সব মিলিয়ে ৫ হাজার ৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
অর্থনীতিবিদরা রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কমায় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ বাড়ায় সাময়িক স্বস্তি এলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবলমাত্র রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল না থেকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বৈদেশিক আয়ের উৎসগুলোকে বহুমুখীকরণ করা এখন সময়ের দাবি।
রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভের এই পুনরুদ্ধার দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায়ের চাপ সামাল দিতে প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রাখা এবং একইসাথে রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য। ৩৫ বিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের টিকে থাকার সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
বিষয় : বাংলাদেশের রিজার্ভ বাংলাদেশ ব্যাংক
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
