জ্বালানি তেল। ফাইল ছবি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ঘোষণা এবং তেহরান-ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় টালমাটাল হয়ে পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজার। আজ সোমবার বাজার খোলার সাথে সাথেই অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
সপ্তাহের প্রথম দিনেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে ঠেকেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। অথচ গত শুক্রবারও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় তেলের দাম নিম্নমুখী ছিল; ব্রেন্ট ক্রুড নেমেছিল ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে। কিন্তু ইসলামাবাদের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে যাওয়ায় সেই স্বস্তি এখন সুদূর পরাহত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। যদিও একে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা একে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের পরিচালক অমৃতা সেনের মতে, যদি এই অবরোধ কার্যকর হয়, তবে বাজার থেকে দৈনিক ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল হারিয়ে যাবে। বর্তমানে এমনিতেই দৈনিক প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ স্থগিত আছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে।
জ্বালানি খাতভিত্তিক হেজ ফান্ড ‘গ্যালো পার্টনার্স’-এর প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মাইকেল আলফারো সতর্ক করে বলেছেন, "হরমুজ অবরোধের অর্থ হলো যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়া। এটি দীর্ঘ মেয়াদে অনিশ্চয়তা বাড়াবে এবং ঝুঁকির নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।" অন্যদিকে, র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বব ম্যাকনালি ভিন্ন এক আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মূল প্রশ্ন হলো—ইরান ও তার মিত্ররা এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পাল্টা কোনো আঘাত হানবে কি না। যদি তা ঘটে, তবে রিস্ট্যাড এনার্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী তেলের দাম ১১০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতি যখন মুদ্রাস্ফীতির চাপে জর্জরিত, তখন জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। জেট ফুয়েল ও ডিজেলের সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে ইতিমধ্যে উদ্বেগ শুরু হয়েছে। ইসলামাবাদে ব্যর্থ আলোচনার রেশ ধরে হরমুজ প্রণালি যদি সত্যিই অবরুদ্ধ হয়, তবে তা কেবল তেলের বাজারে নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতেও এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা করতে পারে।
তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
