× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আল–জাজিরার বিশ্লেষণ

যুদ্ধবিরতি হলেও কাটছে না তেল সংকট, স্বাভাবিক হতে লাগবে দীর্ঘ সময়

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৫ পিএম । আপডেটঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০২ পিএম

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের অবস্থান নির্দেশকারী মানচিত্রের ইলাস্ট্রেশন। ছবি: রয়টার্স

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি অর্জিত যুদ্ধবিরতিকে ‘ভঙ্গুর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বৈশ্বিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালিতে অচলবস্থা ও আস্থার সংকটের কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। আল-জাজিরার এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, কেবল কামানের গর্জন থামলেই বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে না; বরং সরবরাহ শৃঙ্খলের ক্ষত শুকাতে মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে।

পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য পরিবাহিত হয়, তা কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বড় ধরনের চাপের মুখে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই পথ পাড়ি দিলেও, যুদ্ধবিরতির পর বুধবার মাত্র ৫টি এবং বৃহস্পতিবার ৭টি জাহাজ পার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রকফোর্ড ওয়েইৎজ বলেন, “পৃথিবীর তেলবাজারে এযাবৎকাল যত বড় সংকট হয়েছে, বর্তমান সংকট তার মধ্যে অন্যতম। স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সময় এখনো আসেনি।” জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত টোল আরোপের গুঞ্জন এবং বীমা খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির দামে এক ধরনের ‘ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়েছে।

সংঘাতের আঁচ কেবল তেলের দামে সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হিলিয়ামের মতো বিরল গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে টাইলস ও সার উৎপাদনে ব্যবহৃত এই গ্যাসের সংকট বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও প্রযুক্তি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভোক্তারা এই উচ্চমূল্যের চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন।

উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উষা হ্যালি সতর্ক করে বলেছেন, ইরাকসহ কিছু দেশ সংরক্ষণ সক্ষমতার অভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে। এলএনজি খাতে ভারসাম্য ফিরতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে, যদি পরিস্থিতি আর অবনতি না হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে টালমাটাল করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—রাশিয়া ও চীন—ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। রাশিয়ার তেলের বাজার বরং এ পরিস্থিতি থেকে লাভবান হয়েছে এবং চীনা জাহাজ চলাচলেও ইরান বড় কোনো বাধা দেয়নি। বিপরীতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে আগামী সপ্তাহে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হতে পারে। আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা মনে করেন, শান্তি ফিরলেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর থাকবে।

বাজার স্থিতিশীল করতে এখন সবার নজর ইরাকের দিকে। দেশটি প্রতিদিন ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনে সক্ষম হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় তা বন্ধ রেখেছে। ইরাক যদি ইরানের সাথে কোনো পার্শ্বচুক্তি করে উৎপাদন পুনরায় শুরু করে, তবেই বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে নতুন করে বড় বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে কতজন উদ্যোক্তা এগিয়ে আসবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ জলপথ কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির নাড়ি। বর্তমান যুদ্ধবিরতি যদি একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে রূপান্তর না হয়, তবে উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং সরবরাহ ঘাটতি বিশ্ববাসীকে দীর্ঘকাল ভোগাতে থাকবে। শান্তি কেবল কাগজ-কলমে নয়, সমুদ্রের ঢেউয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ বিচরণেই নিহিত।


তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.