× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

দশ বছরে পাচার ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা: জিএফআইয়ের প্রতিবেদন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:০৩ এএম । আপডেটঃ ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:০৩ এএম

গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই)।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন এক গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই পূর্ববর্তী এক দশকের আর্থিক ক্ষতের এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে এল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে প্রায় ৬ হাজার ৮৩০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থপাচারের দিক থেকে শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় নাম উঠে এসেছে বাংলাদেশের।

জিএফআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের প্রধান কৌশল ছিল ‘ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং’ বা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে মিথ্যা ঘোষণা। অনেক ক্ষেত্রে আমদানির ব্যয় বাড়িয়ে দেখিয়ে (ওভার-ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানি আয় কমিয়ে প্রদর্শন করে (আন্ডার-ইনভয়েসিং) দেশ থেকে ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে এই অবৈধ অর্থপ্রবাহ সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। পরিসংখ্যন অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৮৩ কোটি ডলার পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান।

সংস্থাটির তথ্যমতে, পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি ডলার গেছে বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে। তবে জিএফআই-এর এই তথ্য কেবল বাণিজ্যের আড়ালে হওয়া পাচারকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে আরও ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছিল। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনীতিবিদ, আমলা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার (২৮ লাখ কোটি টাকা) বিদেশে পাচার হয়েছে। জিএফআই-এর প্রতিবেদনটি মূলত বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় এটি সামগ্রিক পাচারের একটি অংশ মাত্র বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জিএফআই বলেছে, এই ধরনের অর্থপাচার কেবল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেই টান ফেলছে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও সুশাসনের পথকেও রুদ্ধ করছে। বাণিজ্যের মূল্যে এই বিশাল অসামঞ্জস্যের কারণে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কর রাজস্ব হারাচ্ছে, যা জনসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থকে সংকুচিত করে তুলছে। এশিয়ার বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে চীন, থাইল্যান্ড ও ভারতের পাচারের অংক বেশি হলেও, বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এই পরিমাণ অর্থ হারানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

পাচার ঠেকাতে জিএফআই বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—শুল্ক ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও জোরদার করা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলগুলোতে লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইনভয়েসিং যাচাই করার সক্ষমতা না বাড়ালে এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি দেশের সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো আয়ের এক বিশাল অপচয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই ‘ভ্যালু গ্যাপ’ প্রমাণ করে যে, দেশের আর্থিক খাত ও শুল্ক বিভাগে স্বচ্ছতার অভাব কতটা প্রকট ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের পথ বন্ধ করা এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদি এই অর্থ দেশে থাকত, তবে হয়তো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট আজ ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিত।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.