বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ যুক্ত হলেও তাদের একটি বড় অংশের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করা তরুণদের প্রায় অর্ধেকই কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাননি। বিশেষ করে তরুণীদের ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জ আরও প্রকট ও উদ্বেগজনক।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট এই চিত্র তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত দশ বছরে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছেন। তবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখের মতো। ফলে প্রায় ৫৩ লাখ তরুণ কর্মসংস্থানের মূল স্রোতের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের মতে, এই বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে না পারা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ তৈরি করতে পারে।
ঢাকা সফরকালে জোহানেস জাট অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রাধান্য পায়। তিনি জানান, বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন জোহানেস জাট। তিনি বলেন, "সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।" বিশ্বব্যাংক এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করতে চায়, যেখানে প্রবৃদ্ধির সুফল সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হবে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পথ সুগম করা এবং ভৌত ও মানবিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে সংস্থাটি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশ বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুবিধা নিতে হলে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে অবিলম্বে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।