উৎসবের পোশাক-আশাকের কেনাকাটা শেষে মধ্যবিত্তের ভিড় এখন রাজধানীর মুদিবাজারগুলোতে। ঈদের সকালে ভোজনরসিক বাঙালির পাতে সেমাই না হলে যেন উৎসবের পূর্ণতাই আসে না। তাই ঢাকার কাপ্তান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও সেগুনবাগিচার অলিগলি এখন সেমাই, চিনি আর সুগন্ধি মসলার ঘ্রাণে ম ম করছে। তবে উৎসবের এই শেষ মুহূর্তে মুরগির দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজারে এবার প্যাকেটজাত ও খোলা—উভয় ধরনের সেমাইয়ের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। মানভেদে চিকন সেমাই প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও লাচ্ছা সেমাইয়ের ব্যাপ্তি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে নজরকাড়া মোড়কে ‘ঘিয়ে ভাজা’ দাবি করা কম দামি সেমাইগুলো নিয়ে ক্রেতাদের মনে দানা বেঁধেছে সংশয়। কাপ্তান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আব্দুছ সামাদের প্রশ্ন, “দুইশ-আড়াইশ টাকা কেজি দরে ঘিয়ে ভাজা আসল লাচ্ছা পাওয়া কি আদেও সম্ভব?”
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, প্যাকেটজাত সেমাইয়ের চাকচিক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ এখনো টাটকা ও সাশ্রয়ী খোলা সেমাইয়ের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
মসলার বাজারে ঝাজ, স্থিতিশীল সবজি
সেমাইয়ের স্বাদ বাড়াতে অপরিহার্য কিশমিশ, কাজু বাদাম ও এলাচের দোকানেও উপচে পড়া ভিড়। তবে গত বছরের তুলনায় এলাচের দাম আকাশছোঁয়া; কেজিপ্রতি দর ঠেকেছে ৪ হাজার ৭০০ টাকায়। কাজু বাদাম ও কিশমিশের দামও গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তি। বিপরীতে স্বস্তির খবর দিচ্ছে সবজি বাজার। বেগুন, টমেটো, শসা ও আলু বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের স্থিতিশীল দরেই।
শেষ মুহূর্তে ব্রয়লারের ‘তাপ’
ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে ব্রয়লার মুরগির বাজারে যেন অঘোষিত অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়, আর সোনালী মুরগির দাম ছুঁয়েছে ৩২০ টাকা। রমজানের মাঝামাঝি সময়ে দাম কিছুটা কমলেও উৎসবের চাহিদাকে পুঁজি করে বিক্রেতারা দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। তবে গরুর মাংসের বাজার আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার বৃত্তে স্থির রয়েছে।
বাজেট আর চাহিদার হিসাব মিলিয়ে রাজধানীবাসী এখন ব্যস্ত উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। দামের ঊর্ধ্বগতি থাকলেও স্বজনদের নিয়ে মিষ্টিমুখ করার চিরন্তন আনন্দটুকু ভাগ করে নিতে কার্পণ্য করছেন না কেউ।