ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ফুটপাতে গড়ে ওঠা নতুন নোটের বাজার। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দ ও সালামিতে নতুন নোটের যে বিশেষ গুরুত্ব ছিল, তা এবার ম্লান হতে চলেছে। তবে জনস্বার্থে নোট সরবরাহ বন্ধ রাখা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিপুল পরিমাণ নতুন নোটের বিশেষ বরাদ্দ রেখেছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক অভ্যন্তরীণ আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আনার কৌশলের অংশ হিসেবে এবার ঈদের আগে বাজারে সাধারণের জন্য নতুন নোট ছাড়া হবে না। অথচ গতকাল রোববার থেকে ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত হারে নতুন নোট সংগ্রহ শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ এবং খোদ ব্যাংকেরই অনেক কর্মকর্তা। তাদের মতে, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির কথা বলা হলেও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে নগদ টাকার প্রতি এই বিশেষ আসক্তি মূলত নীতিগত স্ববিরোধিতা।
কারা কত পাচ্ছেন
গত ৩ মার্চ প্রকাশিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন নোট প্রাপ্তির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বরাদ্দ অনুযায়ী:
প্রতিবছর ঈদের মৌসুমে রাজধানীর মতিঝিল ও গুলিস্তান কেন্দ্রিক ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার ব্যবসা চালান। সাধারণ মানুষের জন্য নোটের সরবরাহ না থাকলেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, নিজেদের বেতন-ভাতার চেয়েও বেশি পরিমাণ নতুন নোট উত্তোলনের এই সুযোগ প্রকারান্তরে ফুটপাতের অবৈধ ব্যবসায়ীদের কাছে নতুন টাকা পৌঁছানোর পথ তৈরি করে দিতে পারে। এতে করে ঈদ সালামির আনন্দ সাধারণ মানুষের জন্য আরও ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিষয় : বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ টাকা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
