× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

উত্তাল মতিঝিল

বিক্ষোভের মুখে বিদায় আহসান এইচ মনসুরের, নেপথ্যে দিনভর নাটকীয়তা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১২ পিএম । আপডেটঃ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১৩ পিএম

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাঙ্গণে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। ছবি: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার সৌজন্যে

টানটান উত্তেজনা, নজিরবিহীন বিক্ষোভ আর প্রশাসনিক রদবদলের মধ্য দিয়ে এক নাটকীয় দিন পার করল দেশের আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে। নিয়োগ বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগে থেকেই এদিন মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাঙ্গণ ছিল উত্তাল। একদিকে কর্মকর্তাদের পদত্যাগের আল্টিমেটাম, অন্যদিকে গভর্নরের অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অবসান ঘটে নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের মধ্য দিয়ে।

বুধবার সকাল থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে জড়ো হতে থাকেন সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের কণ্ঠে ছিল গভর্নরের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত সাত-আট মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের নামে দমন-নিপীড়ন চালিয়েছেন আহসান এইচ মনসুর। বিশেষ করে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও তড়িঘড়ি বদলির আদেশ আগুনে ঘি ঢালে।

প্রতিবাদ সভায় সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “আমরা স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি স্বৈরশাসন। গভর্নরের ইচ্ছেমতো নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলবে জবাবদিহিতার ভিত্তিতে।” কর্মকর্তাদের দাবি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করা হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত নিয়ে দায়িত্বহীন মন্তব্যের ফলে গ্রাহকদের আস্থা সংকটে পড়েছে।

বিক্ষোভের মুখেও দমে যাননি আহসান এইচ মনসুর। এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় কিছু কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে, কিন্তু আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে।”

গভর্নর দাবি করেন, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং ডুবতে বসা ব্যাংকগুলোকে উদ্ধারের জন্যই তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী অবস্থানে নিতেই কর্মকর্তাদের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, একটি কুচক্রী মহল ব্যাংকগুলোকে পুনরায় পুরোনো ‘লুটেরা’ মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।

বিকেলের দিকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে তিনি ব্যাংক ত্যাগ করেন। তবে ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু হন গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একদল কর্মকর্তা ‘মব’ তৈরি করে স্লোগান দিতে দিতে তাঁকে ঘাড় ধরে গাড়ি থেকে নামানোর ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। নজিরবিহীন এই বিশৃঙ্খলার মুখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও কর্মকর্তাদের রোষানল থেকে বাঁচতে উপদেষ্টাকে ব্যাংক ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আহসান এইচ মনসুর একজন বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, তাঁর সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শুরু হয়েছিল। গভর্নরের মতো সংবেদনশীল পদে হঠাৎ পরিবর্তনে দাতা সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভালো বার্তা যায় না। সরকারের নীতিগত পরিবর্তন করার সুযোগ থাকলেও ব্যক্তির পরিবর্তন আর্থিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।”

দিনের শেষে মতিঝিলের আকাশ যখন গোধূলির রঙে ঢাকা, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক পা রাখল এক নতুন অধ্যায়ে। দেশের ইতিহাসে প্রথম ‘ব্যবসায়ী গভর্নর’ মোস্তাকুর রহমানের হাত ধরে এই বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.