ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিইআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের পূর্বনির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। সেখান থেকে ১৫ টাকা বিয়োগ করে নতুন দর নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ৩৪১ টাকা। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি সবশেষ সমন্বয়ে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এবারের এই নিম্নমুখী সমন্বয় সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরের বাজেটে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কমাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ভোক্তা পর্যায়ে দাম সহনীয় রাখতে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিবর্তে আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। কর কাঠামোর এই যৌক্তিক সংস্কারই মূলত এলপিজির দাম হ্রাসের পথ প্রশস্ত করেছে।
এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও হ্রাস পেয়েছে। বিইআরসির তথ্যমতে, প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম এবার ২৮ পয়সা কমিয়ে মূসকসহ ৬১ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা করা হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের কর ছাড়ের এই নীতি যদি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে, তবে আসন্ন মাসগুলোতেও জ্বালানি মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তবে মাঠ পর্যায়ে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোক্তারা।