পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা এবং ইফতারের সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিএনজি স্টেশন বন্ধের সময়সীমা দ্বিগুণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ থেকে আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে সিএনজি স্টেশনগুলো প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ইতিপূর্বে এই সময়সীমা ছিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে চাপ বজায় রাখতে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে পূর্বের তিন ঘণ্টার পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিদিন মোট ছয় ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে গ্যাস বিক্রয় বন্ধ রাখতে হবে।
রমজানে কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনে যাতায়াতকারীদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ঈদযাত্রা সুগম করতে আগামী ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ও ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। এই ১১ দিন কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই যানবাহনগুলো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে। তবে ঈদ পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ২৬ মার্চ থেকে পুনরায় পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন তিন ঘণ্টা (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা) স্টেশন বন্ধ রাখার বিধান কার্যকর হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসে গৃহস্থালি ও বিদ্যুৎ শ্রেণিতে গ্যাসের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ইফতার ও তারাবির সময় গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে স্বল্প-চাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা নিরসনেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জ্বালানি প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডের ভারসাম্য রক্ষা করবে, অন্যদিকে পরিকল্পিত ঈদ ব্যবস্থার মাধ্যমে জনভোগান্তি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।