পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশকের দ্বিতীয় দিনে আজ প্রথম জুমার নামাজ উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ছিল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে আধ্যাত্মিক প্রশান্তির খোঁজে আজানের অনেক আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মসজিদের মূল ভবনসহ সংলগ্ন চত্বর। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা করেন হাজারো মানুষ।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সব বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে বায়তুল মোকাররম এলাকা। দুপুর সাড়ে ১২টার আগেই মসজিদের ভেতরের সব কাতার পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে মূল ভবনে জায়গা না পেয়ে কয়েক শ’ মুসল্লি মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ গেট সংলগ্ন সিঁড়ি এবং খোলা চত্বরে জায়নামাজ ও কাগজ বিছিয়ে প্রখর রোদের মধ্যেই নামাজে শামিল হন।
রমজানের পবিত্রতা ও জুমার বরকত লাভে ব্যাকুল মুসল্লিদের মুখে ছিল তসবিহ ও জিকির। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা এক মুসল্লি বলেন, "রমজানের জুমার নামাজের ফজিলত অনেক। বছরের এই বিশেষ দিনগুলোতে জাতীয় মসজিদে নামাজ আদায়ের যে আত্মিক তৃপ্তি, তা অন্য কোথাও পাই না। তাই শত কষ্ট উপেক্ষা করে প্রতি বছরই এখানে চলে আসি।" রহমতের দশকের এই দ্বিতীয় দিনে মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি মসজিদের আশপাশের পরিবেশকে করে তোলে অভাবনীয় ও আধ্যাত্মিক।
বিশেষ এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররম ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পল্টন, দৈনিক বাংলা ও গুলিস্তান মোড় এলাকায় পুলিশের বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ ও মোনাজাত সম্পন্ন হয়।
নামাজ শেষে বয়ানে খতিব রমজানের গুরুত্ব ও আত্মশুদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মোনাজাতে ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের মুক্তি এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনা করা হয়।