বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি
নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ আটকে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের তীব্র প্রতিবাদ ও দিনভর উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে সোমবার অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় লাইসেন্স অনুমোদনের এজেন্ডা থেকে পিছু হটেছে কর্তৃপক্ষ। শেষ মুহূর্তে কার্যসূচি বদলে সভায় কেবল আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি মূল্যায়নের নম্বরপত্র উপস্থাপন করা হয়।
সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল অভিযোগ করে, মাত্র এক দিনের নোটিশে এই জরুরি পর্ষদ সভা ডাকার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে অনৈতিকভাবে লাইসেন্স প্রদান করা। কাউন্সিলের নেতারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, তখন এমন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্বের পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ অভিযোগ করেন, বর্তমান গভর্নরের পূর্ব-সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এই তোড়জোড়। তাঁরা আরও দাবি করেন, যেখানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং অনেক ব্যাংক আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের আগে গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুপুরে পর্ষদ সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথমে লাইসেন্স অনুমোদনের পরিকল্পনা থাকলেও কর্মকর্তাদের বিরোধিতার মুখে শেষ মুহূর্তে নথিপত্র বদলানো হয়। পর্ষদের একাধিক সদস্যও এই ক্রান্তিকালে জরুরি সভা ডাকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, “পর্ষদের জরুরি সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”
কর্মকর্তাদের এই প্রকাশ্য প্রতিবাদের পর বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক এক অফিস আদেশে কর্মকর্তাদের আচরণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে সংবাদ সম্মেলন, জনসভা বা ঘরোয়া বৈঠকে ব্যাংকসংক্রান্ত কোনো নীতিনির্ধারণী বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে ১৩টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদন করে রেখেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক (ভিওন ও স্কয়ার), বুস্ট (রবি আজিয়াটা), মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক (আশা) এবং মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক (আকিজ রিসোর্স)। এ ছাড়া ভুটান, যুক্তরাজ্য ও জাপানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বে আরও বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
