বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড় দিয়েছে সরকার। এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আমদানি পর্যায়ের আগাম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর আদায়কারী সংস্থাটির মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ভোক্তার ওপর থেকে মূসক বা ভ্যাটের বোঝা প্রায় ২০ শতাংশ কমবে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিদ্যমান কর কাঠামো অনুযায়ী, এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ আগাম কর দিতে হতো। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ আগাম কর আর দিতে হবে না। তবে আমদানি পর্যায়ে নতুন করে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
গত জানুয়ারি মাসে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দেয়। সরবরাহ ঘাটতি ও কারসাজির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) আবেদন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদ এই শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।
এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিল্প খাত ও গৃহস্থালি কাজের জন্য অপরিহার্য এই পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতেই জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এলপিজি আমদানিতে ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন এই নির্দেশনার ফলে আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে যে জটিল ট্যাক্স কাঠামো ছিল, তা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হলো। এনবিআর আশা করছে, ভ্যাট ও আগাম কর প্রত্যাহারের ফলে বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম দ্রুত হ্রাস পাবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরবে।