× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেল ৭৩৭৯ বাংলাদেশি পণ্য

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩০ পিএম । আপডেটঃ ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩১ পিএম

টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও। ছবি: পিআইডি

জাপান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার জাপানের টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ হলো বাংলাদেশ। এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) টোকিওতে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক অর্জনের কথা নিশ্চিত করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা—উভয় খাতের বাণিজ্যে অভূতপূর্ব সুবিধা অর্জন করবে। বিশেষ করে পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক জাপানে রপ্তানি করা যাবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ করবে।

এছাড়া, সেবা খাতের আওতায় জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং ও কেয়ারগিভিংসহ ১৬টি বিভাগের ১২০টি উপখাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশও জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "ইপিএ কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়, এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ।" এই চুক্তির ফলে উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে জাপানি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানি উন্নত প্রযুক্তির সংস্পর্শে দেশীয় পণ্যের মান বৃদ্ধি পাবে, যা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে।

এর আগে ভুটানের সঙ্গে একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) থাকলেও, কোনো উন্নত দেশের সাথে এটিই বাংলাদেশের প্রথম বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ঢাকা ও টোকিওতে মোট সাত দফা নিবিড় দর-কষাকষি অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলোচনা কিছুটা থমকে গেলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক বছরের মধ্যে সফলভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন করল।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.