× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আদানির চুক্তিতে ‘ভয়াবহ দুর্নীতি’, বাতিলের পরামর্শ কমিটির

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৪১ এএম । আপডেটঃ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৪২ এএম

আদানি পাওয়ার ফাইল ফটো

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি। এই অসম চুক্তি বাতিলের আইনি লড়াইয়ে নামার জন্য সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার জোরালো সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে চুক্তির আড়ালে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পর্যালোচনাকারী কমিটির সদস্যরা এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান জানান, আন্তর্জাতিক মানের মামলায় জয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী প্রমাণ এই চুক্তির ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “চুক্তির বিনিময়ে সাত-আট জন ব্যক্তির মধ্যে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেন হয়েছে, যার সপক্ষে সংশ্লিষ্টদের ট্রাভেল ডকুমেন্টসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ দুদককে হস্তান্তর করা হয়েছে।” তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হিসাবে সরাসরি লেনদেনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানিকৃত অন্যান্য বিদ্যুতের তুলনায় আদানির বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৪ থেকে ৫ সেন্ট বেশি গুণতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই ইউনিট প্রতি দাম দাঁড়াবে ১৪.৮৭ সেন্ট। এতে চুক্তির ২৫ বছরে প্রতি বছর বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার গচ্চা যাবে। এছাড়া চুক্তিতে এমন কিছু বিতর্কিত শর্ত রয়েছে, যেখানে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে আদানির কোনো আর্থিক ক্ষতি হলে তার দায়ভারও বাংলাদেশকে বহন করতে হবে।

কমিটি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। অস্ট্রেলিয়া বা ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা এনে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় পুড়িয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আনাকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করা হয়েছে। দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করে কেন বিদেশে এই অবকাঠামো গড়া হলো, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (বিপিডিবি) কোনো আলোচনার নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

কমিটির প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান সরকারের সময় কম হলেও আমরা চাইবো পরবর্তী সরকারও যেন জাতীয় স্বার্থে এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখে।” আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে এক বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বা এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি। তারা দাবি করেছে, বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বকেয়া দ্রুত পরিশোধ না হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গঠিত এই ৫ সদস্যের কমিটি গত ২০ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.