সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের পোশাকশিল্পের ‘প্রকৃত বন্ধু’ এবং ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বক্তারা বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বেগম জিয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত ও নীতিগত সহায়তার ফলেই বাংলাদেশের পোশাক খাত আজ বিশ্ববাজারে ঈর্ষণীয় অবস্থানে পৌঁছেছে।
বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বেগম জিয়ার শাসনামলের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁরা জানান, বেগম জিয়ার সুযোগ্য নেতৃত্বে নব্বইয়ের দশকে পোশাক রপ্তানি প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে।
সভাপতির বক্তব্যে সেলিম রহমান বলেন, “খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপসহীন নেত্রী। পোশাকশিল্প যখন শৈশবকাল অতিক্রম করছিল, তখন বড় ধরনের নগদ প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মাধ্যমে তিনি এর ভিত্তি মজবুত করেন। বিশেষ করে ২০০৪ সালে কোটা প্রথা বিলুপ্তির সংকটময় সময়ে ‘জাতীয় কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ গঠন করে তিনি যে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার সুফল শিল্পটি আজও ভোগ করছে।”
সভায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া কর্তৃক মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রবর্তন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং নারী শিক্ষায় উপবৃত্তি চালুর ফলে দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। বিজিএমইএ-কে ‘ইউডি’ ও ‘ইউপি’ প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করে তিনি ব্যবসার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন যে, বর্তমানের সফল পোশাক মালিকদের অনেকেরই সাফল্যের মূলে রয়েছে শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার অবদান।
শোকসভায় বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর একটি বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এতে অর্থনীতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর গৃহীত যুগান্তকারী উদ্যোগসমূহ তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানসহ সংগঠনের সহ-সভাপতি ও পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।